ধান, পাট, মুগডাল ও দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরির ব্যতিক্রমী আয়োজনের পর এবার মুক্তাপুথির কারুকাজে সাজানো হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে ১৪টি প্রতিমা সাজানো হচ্ছে মুক্তার আদলে তৈরি প্রায় ৩৫ হাজার পুথি দিয়ে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে পূজার আগেই মন্দিরে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, গত বছর মাটির প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। এবার দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দিতে মুক্তাপুথির কারুকাজে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে রং, অলংকার ও সৌন্দর্যবর্ধনের শেষ মুহূর্তের কাজ।
মন্দির কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমার শরীর ও অলংকারে নিপুণভাবে বসানো হচ্ছে মুক্তাপুথি। এ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও কারিগরেরা। ১৪টি প্রতিমা তৈরিতে মোট ব্যয় হচ্ছে প্রায় চার লাখ টাকা। ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিবছর নতুনত্ব আনার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ মণ্ডল বলেন, চারজন শিল্পী প্রায় ৫২ দিন ধরে প্রতিমার কাঠামো তৈরি, মাটির কাজ, রং ও মুক্তাপুথির কারুকাজ ফুটিয়ে তোলার কাজ করছেন। প্রতিমায় ব্যবহারের জন্য প্রায় এক লাখ টাকার পুথি কেনা হয়েছে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় দেখা কয়েকটি মূর্তির নকশা এবং নিজেদের পরিকল্পনা মিলিয়ে প্রতিমাগুলো তৈরি করা হচ্ছে। কাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে।
বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিবছর প্রতিমায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়। এবার ভাস্করদের পরামর্শ নিয়ে মুক্তার কারুকাজে প্রতিমা সাজানো হচ্ছে। এ কাজে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে পূজার আগেই অনেকে মণ্ডপে আসছেন। পূজার পাঁচ দিন সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকদের দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। ওই দিন বড়দল ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া আড়ং মেলা। এ সময় বড়দল বাজার, মধ্যম বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, বিষ্ণুপুর, ফাকরাবাদ পূর্বপাড়া, কইসিটি ও বুড়িয়াসহ আশপাশের প্রায় ১০টি মণ্ডপের প্রতিমা একত্র করে বিসর্জন দেওয়া হবে।
দর্শনার্থী সুরেশ কর্মকার, টুম্পা মণ্ডল, পবিত্র সরকার, অর্পিতা সরকার ও শিখা রানীসহ অনেকে বলেন, প্রতিবছর দুর্গোৎসব ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এবার মুক্তাপুথিতে সাজানো প্রতিমার কথা শুনে তারা দেখতে এসেছেন। তাদের প্রত্যাশা, আরও বেশি মানুষ মণ্ডপে এসে প্রতিমা দেখবেন এবং উৎসবে অংশ নেবেন।
আশাশুনি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রণজিত কুমার বৈদ্য বলেন, এ বছর উপজেলায় মোট ১০৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মণ্ডপে ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও নান্দনিক সাজসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে। বুড়িয়ায় মুক্তাপুথির কারুকাজের পাশাপাশি ঘুঘুমারীতে ঝরনার আদলে এবং বুধহাটা কাছারিবাড়ি ও দক্ষিণ বড়দলে ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, উপজেলার ১০৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সাদাপোশাকের বিশেষ দল ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।
