এআই বিনিয়োগে মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা
- আপডেট করা হয়েছে : ১৭-১০-২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ‘ধাক্কা’ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ। বেসরকারি খাতের বিপুল অর্থ বিনিয়োগের ফলে চাহিদা বাড়লেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। খবর এবিসি নিউজের।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আয়োজিত এক সম্মেলনে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ওয়ার্শ বলেন, ‘আপনি যদি একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংকার হন এবং স্থিতিশীল মূল্য ও পূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকেন, তাহলে আপনাকে এটিকে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে স্বীকার করতেই হবে।’
সাম্প্রতিক প্রান্তিকগুলোতে এআই খাতে ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে চিপ উৎপাদন ও তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের মতো খাতে বিপুল বিনিয়োগ সামগ্রিকভাবে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়িয়ে দিতে পারে। নতুন করে পণ্য ও সেবার সরবরাহ না বাড়লে এর ফলে ভোক্তাপর্যায়ে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে।
ওয়ার্শ বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই অর্থনীতির সরবরাহের দিকের তুলনায় চাহিদার দিকেই আগে প্রভাব ফেলছে।’
গত মে মাসে ফেডের দায়িত্ব নেওয়া ওয়ার্শ এর আগেও শ্রমবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন। শুক্রবার তিনি প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শেষ পর্যন্ত এআই উৎপাদনশীলতা ও সম্পদ বাড়াবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা এখন যেখানে আছি, সেখান থেকে সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর পথটি বেশ অস্থির হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
ওয়ার্শ আরও বলেন, ‘এই নতুন প্রযুক্তিগুলোর বাজারকাঠামো কেমন হবে, তা আমরা সত্যিই জানি না। কারা এখান থেকে অর্থ উপার্জন করবে?’
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের মতো অন্যান্য ধাক্কার কথাও উল্লেখ করেন ফেডপ্রধান। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে নজিরবিহীন ধাক্কা লাগে। এতে বিভিন্ন দেশে মূল্যবৃদ্ধির গতি বেড়ে যায়। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বাড়তে থাকায় সেপ্টেম্বরে দেশটির মূল্যস্ফীতি চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর নতুন তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এটি ১ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
ওয়ার্শ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করলে দাম বাড়ার একই চিত্র সামনে আসে। বিশ্বজুড়ে আমার সহকর্মীদের মধ্যে মূল্যস্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দৃঢ় সংকল্প দেখেছি। আমার মধ্যেও সেই সংকল্প রয়েছে।’
মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ায় ফেড। ২০২৩ সালের পর এটি ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি।
সাধারণত সুদের হার বাড়িয়ে অর্থনীতির গতি ও চাহিদা কমানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে এ ধরনের নীতির প্রভাব পড়তে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
ফেডের নীতিনির্ধারকদের পরবর্তী বৈঠক ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এই বৈঠক হবে। আগের বিভিন্ন প্রকাশ্য বক্তব্যের মতো এবারও বৈঠকে সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে আগাম কোনো পূর্বাভাস দেননি ওয়ার্শ।
তিনি বলেন, ‘আমি বৈঠকের সিদ্ধান্ত আগেভাগে নির্ধারণ করি না। বছরের বাকি সময়ে যেসব বৈঠক হবে, সেগুলোতে আমি কী করতে পারি, তা এখনই বলে দেওয়ায় বিশ্বাসী নই।’
ওয়ার্শের এই অবস্থানকে অনেক বিনিয়োগকারী চলতি মাসের শেষ দিকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে বিনিয়োগকারীরা ফেডের বর্তমান সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৮৬ শতাংশ বলে ধারণা করছিলেন। বুধবার এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ।
