নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সংঘটিত এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঝুটের ৩০টি গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে ফতুল্লার বিলাসনগর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে গোডাউনগুলোতে থাকা কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এসব ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন, যা তাদের এখন পথে বসিয়ে দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে ফতুল্লার বিলাসনগর এলাকার একটি ঝুটের গোডাউন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই লেলিহান শিখা চারপাশের গোডাউনগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক গোডাউন আগুনের লেলিহান গ্রাসে চলে যায়। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, গোডাউনে মজুদ করা ঝুটের কাপড় বা কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া, হাজীগঞ্জ ও শিবু মার্কেট স্টেশন থেকে মোট ছয়টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দমকল বাহিনীর কর্মীদের টানা প্রায় দেড় ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই ৩০টি গোডাউনের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ ঝুট ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনটি স্টেশনের ছয়টি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গোডাউনে আনুমানিক ৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ঝুটের মালামাল মজুদ ছিল। সেই হিসাবে ৩০টি গোডাউন পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে সর্বস্ব হারানো ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে শিল্পাঞ্চল ও গোডাউন এলাকায় কঠোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
