আজকের পত্রিকা ডেস্ক
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, নেতানিয়াহুর দপ্তর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশকে আশ্বস্ত করেছে যে, বেন–গভিরের চরমপন্থি রাজনৈতিক দল ‘ওৎজমা ইয়েহুদিত’ বা জিউয়িশ পাওয়ারকে পরবর্তী সরকারে রাখা হবে না।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনাথের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, বেন-গভির দাবি করেছেন—নেতানিয়াহুর দপ্তরের তরফ থেকে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতির নথিভিত্তিক তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে।
বেন-গভির বলেন, ‘আমার কাছে আসা নিশ্চিত ও নথিভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা দিয়েছে যে আমি (বেন-গভির) পরবর্তী সরকারের অংশ থাকব না।’ তিনি আরও বলেন, এই বার্তা বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু তাঁর পরবর্তী জোটে ওৎজমা ইয়েহুদিত দলকে রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন না।
তবে বেন-গভির এই ঘটনার সাথে জড়িত কোনো ইউরোপীয় দেশের নাম প্রকাশ করেননি কিংবা এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবরণও দেননি। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এগুলোকে ‘মিথ্যা রাজনৈতিক চাল’ বলে বর্ণনা করেছে। এক বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে কোনো সরকার গঠন করলে সেখানে তাঁর বর্তমান জোট সঙ্গীদেরই রেখে দেওয়ার ইচ্ছা রাখেন।
আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মন্ত্রীত্ব বণ্টন এবং নতুন জোট গঠন নিয়ে নেতানিয়াহু ও বেন-গভিরের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। তার মধ্যেই এই বাকবিতণ্ডা সামনে এল। এর আগে গত শনিবার, ওৎজমা ইয়েহুদিত দল অভিযোগ তোলে যে, বেন-গভির ও তাঁর দলকে বাদ দিয়ে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে একটি জোট সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন।
তবে এই বিরোধ সত্ত্বেও বেন-গভির জোর দিয়ে বলেছেন, ওৎজমা ইয়েহুদিত দলকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেই পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হতে সমর্থন করা। এর আগে ইসরায়েলি মারিভ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ইসরায়েলি রেডিও স্টেশন ১০৪–এফএমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তাঁর দলের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে; আমি জিতবই—এ বিষয়ে নিশ্চিত নই এবং আমি বেশ চিন্তিত।’ তিনি আরও জানান যে, নির্বাচনে হেরে গেলেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন।
উল্লেখ্য, নেতানিয়াহু বর্তমানে ইসরায়েলে ঘুষ, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের মতো দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তা ছাড়া, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।

