প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়মাবলী লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম ম্যাচটি অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে হারিয়ে শেষ হয়েছে।
এনজো মারেস্কার দল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে তাদের তিন পয়েন্টের ব্যবধান এক দৃষ্টিনন্দন ভঙ্গিমায় পুনরুদ্ধার করেছে। তবে মৌসুমে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুলন্ত অবস্থা এখনও রয়ে গেছে। কারণ সম্ভাব্য প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার, রেলিগেশন কিংবা রেকর্ড পয়েন্ট কর্তনের শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে সিটি।
খেলার আগে ও খেলা চলাকালীন লিভারপুল ভক্তরা অনবরত ’প্রতারক’ বলে তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। তবে স্বাধীন কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা সিটি একটি নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এর জবাব দেয় এবং ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া লিভারপুলকে ধীরে ধীরে তছনছ করে দেয়। স্বাগতিক দলের রায়ান গ্রাভেনবার্চ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে আর্লিং হালান্ড এক দুরন্ত ফিনিশিংয়ে প্রথম গোল করেন। এর তিন মিনিট পর বদলি খেলোয়াড় জেরেমি ডোকু টপ কর্নারে এক দুর্দান্ত শটে দ্বিতীয় গোলটি যোগ করেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ১২ মিনিট আগে রায়ান চেরকি চমৎকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়ে ৩-০ ব্যবধান করলে সিটির একচ্ছত্র শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত হয়।
ম্যাচটি একটি প্রত্যাশিত উত্তপ্ত আমেজ দিয়ে শুরু হয়েছিল। লিভারপুলের সমর্থকগোষ্ঠী ‘এ জেনারেশন অফ সাপোর্টার্স চিটেড’ (সমর্থকদের একটি প্রজন্ম প্রতারিত) বার্তা সংবলিত ব্যানার উঁচিয়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নিয়ে কটূক্তি ছুড়ে দেয়। বিপরীতে সিটির ভক্তরা তাদের মালিকদের সমর্থনে একটি ফ্ল্যাগ উঁচিয়ে জবাব দেয়, যাতে লেখা ছিল 'ইন খালদুন উই ট্রাস্ট' (আমরা খালদুনের ওপর আস্থা রাখি)।
প্রাথমিক হইচই ও উত্তেজনা কমে আসার পর প্রথমার্ধটি কিছুটা নিষ্প্রভ ছিল। সিটি শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খেলার গতি ধীর করে দেয়। অন্যদিকে লিভারপুলও সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছিল।
দ্বিতীয় অর্ধে খেলায় গতি ফেরে। সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা দ্রুত পরপর ভিক্টর মুনোজ এবং গ্রাভেনবার্চের শট ঠেকিয়ে দেন। অন্যদিকে ফাঁকায় বল পেয়েও হালান্ড শট গোলপোস্টের বাইরে মারলে হতাশায় মাথায় হাত দেন।
ডোকুকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে গ্রাভেনবার্চ মাঠ ছাড়লে লিভারপুলের জন্য বিষয়টি বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আর সিটি খেলার গতি বদলে অনায়াসেই জয় তুলে নেয়।
এফএইচএম/বিআরইউ
