টেস্টের লড়াই শেষ আজই, এবার অপেক্ষা সাদা বলের চ্যালেঞ্জ। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন মিশনে নেমে পড়ছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজকে ঘিরে এবার শুধু ভালো খেলার প্রত্যাশা নয়, সরাসরি শিরোপার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ দল। সেই লক্ষ্য নিয়েই আজ আমিরাতের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন দলের বাকি ক্রিকেটাররা!
এই সফরে বাংলাদেশের স্কোয়াডে রয়েছে একটি চমকও। দলে জায়গা পেয়েছেন আলিস আল ইসলাম। তার সঙ্গে তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নুরুল হাসান সোহানসহ অন্য ক্রিকেটাররাও উড়াল দিয়েছেন মরুর দেশে। বিমানবন্দর থেকে বিমানে ওঠার মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তাসকিন ও মুস্তাফিজ।
আগামী ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজ অভিযান। ১৯ অক্টোবর মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান। এরপর ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তিন দলের লড়াই শেষে ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ম্যাচগুলো হবে আবুধাবি ও শারজায়।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের স্মৃতি খুব বেশি নেই। ২০১৯ সালে ডাবলিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই আসরে তৃতীয় দল ছিল স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের সুযোগ এসেছে টাইগারদের সামনে।
এবারের আসরকে কেবল আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিদেশীয় লড়াই হিসেবে দেখছেন না দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহান। সামনে এশিয়া কাপ ও ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থাকায় এই সিরিজকে প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ মনে করছেন তিনি। বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সোহান বলেন, ‘অবশ্যই যেটা বললাম যে এশিয়া কাপের পরপরই বিশ্বকাপ। যেহেতু বড় দুইটা টুর্নামেন্ট আছে, তার আগে এরকম ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার সুযোগ পাচ্ছি। যদি দল হিসেবে বলি অবশ্যই আমাদের এখানে ভালো করা উচিত এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া উচিত।’
সোহানের বক্তব্যে পরিষ্কার, শুধু অংশগ্রহণ নয়, শিরোপা জেতাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে বড় দুটি টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করার সুযোগ হিসেবে এই সিরিজকে কাজে লাগাতে চায় দল। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়াইয়ে দলের শক্তি-দুর্বলতা বোঝার পাশাপাশি ম্যাচ জয়ের অভ্যাসও ঝালিয়ে নিতে পারবেন ক্রিকেটাররা।
আমিরাতের আবহাওয়া অবশ্য বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। মরুর গরমে মানিয়ে নেওয়াটা সহজ হবে না। তবে এ নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন সোহান। তার মতে, প্রতিপক্ষ দলগুলোকেও একই পরিবেশের মধ্য দিয়ে খেলতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গরমটা একটু আছে। তবে আমার কাছে মনে হয় দুই দলের জন্যই সমান হবে। তাই এই জায়গায় আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে, যতটুকু মানিয়ে নিতে পারি, সেই চেষ্টাই করব।’
সতীর্থদের খেলা দেখতে আবুধাবিতে থাকা ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও মরুর আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ হয়েছে দলের। গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমিরাতের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে সোহানের। ফলে পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।
নতুন মিশন নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যেও রয়েছে উচ্ছ্বাস। বিমানে ওঠার পর নিজের ছবি পোস্ট করে তাসকিন লিখেছেন, ‘শুভ সকাল সবাইকে। ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। সবাই দোয়া করবেন।’
অন্যদিকে মুস্তাফিজুর রহমান লিখেছেন, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
