খুলনা গেজেট অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
গত ৫ দিনেও দাকোপের বটবুনিয়া ভাঙনকবলিত এলাকায় বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মিত না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির আমন ফসল।
গত ১১ অক্টোবর সকালে দাকোপের বটবুনিয়া বাজারের হরিসভা মন্দির এলাকায় আনুমানিক ৫০ মিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ঢাকী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষণিক বালির বস্তা ও টিউব ফেলে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙন কবলিত বাঁধের অবস্থা অপরিবর্তিত। গত ৫ দিনেও সেখানে টেকসই বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু হয়নি। সেখানে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকার সাব ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আঃ রহমান এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ নয়ন আলীর সাথে কথা হয়।
তারা জানান, ভাঙনের গতিপথ এবং অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা হবে। যে কারণে একটু সময় নেওয়া হচ্ছে। তবে এ সপ্তাহের মধ্যে বিকল্প বাঁধের কাজ শুরু হবে এমন দাবি তাদের। ভয়াবহ ওই ভাঙনে সেখানকার ৭টি পরিবারের ঘরবাড়িসহ সকল মালামাল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাদেরই একজন কৃষ্ণপদ সরদার আত্ননাদ করে বলেন, কিছুদিন আগে একবার ভাঙনের কারণে বাড়ি বদল করেছি। সর্বশেষ দ্বিতীয় দফা ভাঙনে আমার ঘরবাড়িসহ অন্যান্য মালামাল এমনকি স্বর্ণালংকারও নদীতে চলে গেছে। এখন খোলা আকাশের নীচে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। একই অবস্থা প্রশান্ত সরদার, যদুবর সরদার, নিরঞ্জন মিস্ত্রি, অজিত সরদার, অলকেশ সরদার এবং রনজিত সরদারের পরিবারের।
তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, অতিদ্রুত বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে সমগ্র ৩১ নং পোল্ডার প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির আমন ফসলসহ ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট।
স্থানীয়রা জানায়, ভাঙনকুলে বসবাসরতরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধ নির্মাণ করার জন্য জায়গা না দেওয়ায় এই পরিণতি হয়েছে। এদিকে ভাঙনে গৃহহারা ৭ পরিবারের মাঝে স্থানীয় সংসদ সদস্য আমির এজাজ খানের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিবার প্রতি ৩০ কেজি চাল ও ৬ হাজার করে টাকা ত্রান সহায়তা দিয়েছেন। জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে গৃহহারাদের অর্থ সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে বেড়িবাঁধে অব্যাহত ভাঙনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এবং চালনা পৌরসভার খলিশা এলাকার বাঁধ।
খুলনা গেজেট/এনএম
