*তৃণমূলের আইনি সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন, নেতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলা ও গ্রেপ্তারের চাপে বিপর্যস্ত কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একাংশ। কেউ কারাগারে, কেউ আত্মগোপনে। এমন পরিস্থিতিতে দলটির জেলা, শহর ও সদর থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা এবং তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্র।
অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা কিংবা তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতাদের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট নেতাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা হাতবদলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কারাগারে কর্মীরা, নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদরউদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা এবং সদর থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন কর্মীর স্বজন।
তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সাধারণ কর্মীদের সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হলেও সংকটের সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নেতাদের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। কারাগারে থাকা কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এক কর্মীর স্বজনের ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় যেসব নেতার নির্দেশনায় কর্মীরা মাঠে থাকতেন, সংকটের সময়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্যবসা-বাণিজ্য ও লাইসেন্স নিয়ে অভিযোগ
কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের জেলা ও শহর পর্যায়ের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ইটভাটা, বড় বাস, তামাক পরিবহন ও তামাক ব্যবসা, প্লাইউড কারখানায় শেয়ার এবং সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে।
এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে নেওয়া লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে আয় করার অভিযোগও করেছেন কয়েকটি সূত্র। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও এসব ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে তেমন প্রভাব পড়েনি; কিছু ক্ষেত্রে অন্যের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
তবে কোন প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কার নামে, সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের প্রকৃতি কী, সেগুলো আইনসম্মতভাবে হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া হয়েছে কি না এবং ব্যবসা পরিচালনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না- এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ও জাপান টোব্যাকোর সঙ্গে তাদের পূর্বের ব্যবসা হাত বদলের মাধ্যমে চলমান।
তৃণমূলে বাড়ছে হতাশা
কর্মীদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা কর্মীরা বিপদে পড়লে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কার?
কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তৃণমূল কর্মীদের দুর্দশা, শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা এবং তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রামাণ্য নথি গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা জেলার নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে বারবার দাবি করে আসছেন।
তবে বাস্তবে কারাগারে থাকা নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জেলা আওয়ামী লীগের এসব শীর্ষ নেতার কাছ থেকে কোনো ধরনের আইনি বা আর্থিক সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতার কথা বলা হলেও সংকটের সময়ে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট নেতাদের। ফলে নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল পর্যায়ে।
