মুন্সিগঞ্জ জেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে গতকাল রাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারায়।
দেশের ছয় জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জে তিনজন, যশোরে তিনজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুজন, গাজীপুরে দুজন ও নরসিংদীতে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বগুড়ায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টার এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৩৪ জন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
মুন্সিগঞ্জ: জেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে গতকাল রাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কসংলগ্ন রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরো ১৬ জন। নিহতরা হলেন বাসের সুপারভাইজার রোকুনুজ্জামান রঞ্জু, হেলপার শ্রী চঞ্চল বিশ্বাস ও যাত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সাকিব।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে চালকের ঘুম ঘুম ভাব ও অসতর্কতার কারণে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে নেয়ায় সকাল ৬টা থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যশোর: যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় গত শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় আরো দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন সিয়াম হোসেন ও আরিফুল ইসলাম জয়। আহত ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাতকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গতকাল সকালে যাত্রীবাহী বাস ও বালিবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই বাসযাত্রী নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন সৌরভ ও আসিফ। পুলিশ জানায়, রংপুরের দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস সিলেটে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। আশঙ্কাজনক তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর: টঙ্গীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন তপন চন্দ্র দাস ও তার ছেলে লিখন চন্দ্র দাস। গতকাল ভোরে গাজীপুরা এলাকায় বিআরটি লেনের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা লিখনকে মৃত ঘোষণা করেন। তপন চন্দ্র দাসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সকালে মারা যান।
বগুড়া: ছুটি শেষে ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত গোলাম রব্বানী পুলিশ সদর দপ্তরে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় তাকে বহনকারী প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
নরসিংদী: জেলার রায়পুরায় ঘোরাঘুরি শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নছিমনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। তারা হলেন নীরব মিয়া ও জীবন মিয়া। হাসনাবাদ এলাকায় গত শুক্রবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাতে দুজনের মৃত্যু হয়।
