সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম। স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন তার মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবার কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
নজরুল ইসলাম সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পরিবারের হাল ধরতে এসএসসি পাসের পর ২০২২ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মক্কা নগরীর পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ নেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর থেকে নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে হঠাৎ একদিন কারাগার থেকে ফোন করে তিনি পরিবারকে জানান, তিনি বন্দি রয়েছেন। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরবের কারাগারে ছিলেন নজরুল।
পরিবারের দাবি, গত রোববারও নজরুলের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিল। এরপর বুধবার (১৪ অক্টোবর) তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারেন তারা। তিন বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর পরিবার কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে না জানিয়েই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুলকে যথাযথ আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা কী ছিল—এসব প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার মা-বাবা।
ছেলের মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে সেদিনই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। একসঙ্গে দুটি শোকের আঘাতে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এ ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোকাহত মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল কি না এবং নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা নজরুল ইসলামের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাঈদ জানান, নজরুল ইসলামের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।
