প্রকাশিত: ১১:৫৯, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ আপডেট: ১২:১৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ঐতিহ্যবাহী মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ঐতিহ্যবাহী মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়। বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে মারধরের ঘটনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে এ সিদ্ধান্তের পর বিহার পরিদর্শনে গিয়ে ফিরে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
বিহারের মহাথেরো উত্তম ভিক্ষু বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে বিহারের সীমানার মধ্যে একটি দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে বিহার কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্থানীয় নাসির হাওলাদার ও সামসুল আলম বিহারের জমিতে নিজেদের মালিকানা দাবি করে সভাপতি মংলাচিনকে মারধর করেন।
তিনি আরো বলেন, ঘটনায় গতকাল বুধবার মংলাচিন মহিপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়।
বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংলাচিন বলেন, মন্দিরের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে ভুলবশত বিএস জরিপে তাদের নামে কিছু জমি রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। কাগজপত্র বিহারের নামে থাকা সত্ত্বেও শুধু বিএস জরিপের ভিত্তিতে তারা শতবর্ষী মন্দিরের জমির মালিকানা দাবি করছেন এবং তা দখলের পাঁয়তারা করছেন। বৌদ্ধবিহারের সামনে থাকা দোকানিরা বিহারের সীমানার মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশদূষণ করে আসছিলেন। বিহার এলাকার পরিবেশ সুরক্ষায় সেখানে একটি দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে বিহার কর্তৃপক্ষ। এ সময় সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদার নিজেদের জমি দাবি করে ঘর নির্মাণে বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে নাসির হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পটুয়াখালী জেলা রাখাইন বৌদ্ধ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমং তালুকদার বলেন, রাখাইনদের প্রার্থনাগৃহ সীমা বৌদ্ধবিহারের জমি দখলের জন্য সামসুল আলম ও নাসির গং দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত সীমা বৌদ্ধবিহার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ বিহারে স্থাপিত অষ্টধাতুর তৈরি ৩৭ মণ ওজনের গৌতম বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন মূর্তি দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় জমান হাজারো পর্যটক।
