আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টের স্পেশাল ভ্যাকেশন বেঞ্চে উঠল জনস্বার্থ মামলা। গত ১৭ অক্টোবরের এই ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত ১৪টি বিষয় আদালতে পেশ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করা, কারও গাফিলতি ছিল কি না তা দেখা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আটকানোর উপায় খোঁজার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে। প্রস্তাবিত তদন্তে প্রথমেই ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
কীভাবে ভিড় বাড়ল, কখন মানুষের মধ্যে ঠেলাঠেলি শুরু হল এবং কী পরিস্থিতিতে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। অতিরিক্ত ভিড়, গেট খোলা বা বন্ধ করা, গুজব, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খারাপ আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত প্রবেশ ও বেরনোর পথের অভাবের মতো বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখার প্রস্তাব রয়েছে।
ঘটনাস্থলে কত মানুষ ছিলেন এবং মণ্ডপের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে ভিড় হয়েছিল কি না, তাও দেখা তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনার কারণ জানতে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলে তোলা ভিডিও, ফোনের রেকর্ড, পুলিশ ও কন্ট্রোল রুমের নথি এবং চিকিৎসার কাগজপত্র পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি মাইকে ঘোষণা, গুজব বা মানুষের আকস্মিক ছোটাছুটি পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছিল কি না, তা-ও আনা হবে তদন্তের আওতায়। পুজো উদ্যোক্তা, পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী, দমকল, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা, হাসপাতাল এবং পুর প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মণ্ডপের গেট, সিঁড়ি, ব্যারিকেড এবং জরুরি নির্গমনপথ যথেষ্ট নিরাপদ ছিল কি না, তাও দেখা হবে। নিয়ম মেনে পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কিনা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত শর্তাবলি অনুযায়ী, পুজো উদ্যোক্তা, পুলিশ, কলকাতা পুরনিগম, পূর্ত দপ্তর, দমকল, CESC অথবা অন্য কোনও সংস্থার গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ, আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকায় বড় পুজোর সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত প্রবেশ ও নির্গমনপথ, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি, মাইকে ঘোষণা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে সুপারিশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=3QkNYyh3xTaQ6cYQ
তবে এই ১৪টি বিষয় রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত তদন্তের শর্ত। আদালতে পেশ করা হয়েছে বলেই প্রত্যেকটি বিষয় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে, এমনটা বলা যাবে না। প্রয়োজন হলে আদালত তদন্তের শর্তে পরিবর্তন করতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
