আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থেকে পাকিস্তানে ওটিপি পাঠানোর অভিযোগে তদন্তের জাল কি আরও বিস্তৃত হচ্ছে? রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) পর এবার ময়দানে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার পিংলা থানায় পৌঁছে পাঁচ জনকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থানার অন্দরে চলছে প্রশ্নোত্তর পর্ব। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। পিংলা থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে ওটিপি আদানপ্রদান এবং গুপ্তচরবৃত্তিতে সহযোগিতার অভিযোগ সামনে আসতেই শুরু হয়েছিল তোলপাড়। তদন্তে নেমে গত মে মাসে পিংলার ক্ষীরাই পঞ্চায়েত এলাকার শেখ মুরসালিন এবং সুরথচক গৌতম খাঁড়াকে গ্রেপ্তার করেছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। অভিযোগ ছিল, ভারতীয় সিমকার্ডের মাধ্যমে পাওয়া ওটিপি পৌঁছে দেওয়া হত পাকিস্তানে থাকা ব্যক্তিদের কাছে। সেই ওটিপি ব্যবহার করে ভারতীয় নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করার অভিযোগও ওঠে।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু ওই পাঁচ জন কারা? তাঁদের সঙ্গে আগের ঘটনায় ধৃতদের কোনও যোগাযোগ রয়েছে কি? নাকি তদন্তে উঠে আসা নতুন কোনও তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়েছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পাকিস্তানে ওটিপি পাঠানোর অভিযোগ কি শুধুই কয়েক জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করে বিদেশে যোগাযোগের এই অভিযোগের সঙ্গে আর কারা জড়িত থাকতে পারেন, তা নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া মানেই কেউ অপরাধে যুক্ত, এমন নয়। বৃহস্পতিবারের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কী তথ্য উঠে এসেছে কিংবা নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত খবর নেই। পিংলার একটি সিমকার্ড-ওটিপি চক্রের তদন্ত এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে। দীর্ঘক্ষণ চলা জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনও সূত্র মিলবে কি? আপাতত সেই প্রশ্নেই নজর পশ্চিম মেদিনীপুরের।
