Published on
:
2 min read
ইউরোপের একাধিক দেশে বিক্ষোভে। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি থেকে আলবেনিয়া—বিভিন্ন দেশে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। কোথাও স্কুলের শিক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ, কোথাও বাড়িভাড়া, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। আবার কোনও দেশে দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু, কেন হঠাৎ এতগুলি দেশে একসঙ্গে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে?
মূল কারণ যে যে বিষয়গুলি উঠে আসছে?
সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, জ্বালানি ও বাসস্থানের খরচ দিন দিন বাড়ছে। বহু পরিবারের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্য দিকে, বেতন সেই অনুপাতে না বাড়ায় মানুষের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে হয়েছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে অসন্তোষ।
ফ্রান্সে শিক্ষা ও জ্বালানির দাম নিয়ে ক্ষোভ
বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল ফ্রান্স। সেপ্টেম্বরের শেষের দিক থেকে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, স্কুলে শিক্ষকের অভাব, দীর্ঘ সময় ক্লাস বন্ধ থাকা, অপরিচ্ছন্ন ও জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জটিল ব্যবস্থা তাঁদের পড়াশোনায় বাধা তৈরি করছে।
প্রথম ছাত্র আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে এই আন্দোলনে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলিও। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, কম বেতন এবং পেনশন নিয়ে অসন্তোষের জেরে আন্দোলন আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণে জ্বালানির সঙ্কটও তীব্র হয়েছে ফ্রান্সে। সরকার শিক্ষকের ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত ৩,০০০ জন বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ফি বাড়ানোর পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।
স্পেনে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ
স্পেনে বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ থাকার জায়গায় অভাব। বাড়িভাড়া অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে শহরে বাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীরা বাড়িভাড়া কমানো, উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির বাড়ি কেনার উপরে বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
পর্তুগাল ও ইতালিতেও একই ছবি
পর্তুগালে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাড়ির দাম ১২৪ শতাংশ বেড়েছে বলে সরকারি তথ্যের উল্লেখ করেছে দ্য গার্ডিয়ান। ফলে বহু মানুষের কাছে বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। লিসবনে বিক্ষোভকারীরা আবাসন ও মূল্যবৃদ্ধি কী ভাবে কমানো যাবে, সেই দাবিতে পথে নামেন।
ইতালির মিলানেও সংসারের খরচ নিয়ে বিক্ষোভ হয়। তবে সেখানে শান্তিপূর্ণ মিছিলের পরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে পাথর ছোড়েন এবং রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেন।
আলবেনিয়ায় দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের প্রশ্ন
আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। অভিযোগ ওঠে বর্তমান সরকারের দুর্নীতি নিয়ে। পাশাপাশি কাজের সুযোগের অভাব এবং শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ।
শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?
বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি আলাদা হলেও সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা, উন্নত শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সাশ্রয়ী বাসস্থানের দাবি। সরকার কিছু পদক্ষেপ করলেও তাতে অসন্তোষ পুরোপুরি মিটবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে, ইউরোপের এই বিক্ষোভ কিন্তু ধীরে ধীরে বড় আকার নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের দাবি সরকার না মানলে এই অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
