ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কদমতলী বাজারের যানজটে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে; জনভোগান্তি কমাতে বাজারটি কসবা নতুন বাজারে স্থানান্তর ও যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, আর দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ কদমতলী মোড়ে প্রতিদিনের যানজটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সড়কের ওপর বসা বাজার, রাস্তার দুই পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ অবস্থান এবং দোকানপাট ঘিরে যানবাহনের ভিড়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। এতে জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমাতে কদমতলী বাজারটি কসবা নতুন বাজারে স্থানান্তর এবং যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে কদমতলী বাজারের কার্যক্রম। এ সময় সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং সড়কসংলগ্ন দোকানপাটের কারণে যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়। কখনো কখনো মাত্র আধা কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে বলে অভিযোগ তাঁদের।
কদমতলী মোড়টি কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেসরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। পাশাপাশি আড়াইবাড়ি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতেও এ পথ ব্যবহার করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
এ ছাড়া কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কুটি-চৌমুহনী দিক থেকে কসবা উপজেলা শহরে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। ফলে বাজারের যানজটে আটকে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে জরুরি রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “এই কদমতলী কসবার একটি প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো এখানে, পাশেই পৌর উচ্চ বিদ্যালয়। সবকিছু মিলিয়ে যানজটে সব শ্রেণির মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। বাজারটিরও প্রয়োজন আছে। তবে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারটি আশপাশের উপযুক্ত জায়গায়, বিশেষ করে কসবা নতুন বাজারে স্থানান্তর করলে শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।”
স্থানীয়দের মতে, যানবাহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাময়িকভাবে যানজট কমানো সম্ভব হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ। বাজারটি স্থানান্তরের পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড স্থাপন এবং সড়ক দখলমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম সামদানি বলেন, “এখানে যানজট নিরসনে বাজারটিকে বিকল্প কোনো জায়গায় নিতে হবে। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বাজারটি কসবা নতুন বাজারে স্থানান্তর করা হোক। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশে সিএনজি ও অটোগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। এগুলোকেও নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে। যানজটের কারণে ছাত্রছাত্রী ও রোগীদের বেশি সমস্যা হচ্ছে।”
এদিকে, কদমতলী বাজারের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, “কদমতলী বাজারের কারণে প্রতিনিয়ত যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা অবশ্যই দুঃখজনক। এখানে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও সাধারণ পথচারীরা রীতিমতো অসুবিধার শিকার হচ্ছেন। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কীভাবে যানজট নিরসন করা যায়, সে বিষয়ে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছি।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব। আমরা চেষ্টা করব কদমতলী বাজারটি সেখান থেকে স্থানান্তর করে কসবা নতুন বাজারে নেওয়ার।”
কদমতলী মোড়ের যানজট এখন স্থানীয় মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। বাজার স্থানান্তর, যানবাহনের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং সড়ক দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে প্রশাসনের আশ্বাসের বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। এতে জরুরি রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারবেন, শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারবে এবং সচল থাকবে কসবা শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ।
