Published on
:
2 min read
পুলক বেরা, তমলুক: একসময়ে অন্য গ্রামে দুর্গাপুজোর অঞ্জলি দিতে হতো তাঁদের। নিজেদের গ্রামে পুজো হবে, স্বপ্ন ছিল মহিলাদের। এরপরে ওঁরাই নিজেদের কাঁধে পুজোর দায়িত্ব তুলে নেন। এখন কেউ যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি চাঁদা তুলতে। কেউ আবার পুজোর সরঞ্জাম কিনতে ব্যস্ত। পুজোর বাজেট থেকে শুরু করে ভোগের আয়োজন সবই করছেন মহিলারা। চাঁদা ছাড়াও নিজেদের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা থেকেও টাকা দিচ্ছেন তাঁরা। এক মহিলা জানান, আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা থেকেই পুজোর জোগাড় করতেন। কিন্তু এখন টাকা বেড়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার। তাই বেড়েছে পুজোর বাজেটও।
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ধুর্পা গ্রামে দুর্গাপুজো ছিল না। ২০২৩ সালে প্রায় ৭০-৮০ জন মহিলা মিলে তৈরি করেন ‘মাতৃশক্তি’ পুজো কমিটি। নিজেদের সরকারি মাসিক ভাতার এক মাসের টাকা একত্র করে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে কিছু সাহায্য নিয়ে শুরু হয় দুর্গাপুজো। সেই পুজো এ বার চতুর্থ বর্ষে পড়ল। শুরুতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা করে পেতেন। পরে তা বেড়ে ১০০০ এবং ১৫০০ টাকা হয়। বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনায় সেই টাকা বেড়ে ৩০০০ টাকা হয়েছে। পুজো কমিটির সভাপতি নমিতা মাজি বলেন, ‘৩০০০ টাকা হওয়ায় এ বার পুজোর বাজেটও বাড়বে। যদিও কমিটির একাংশ সদস্যই এখনও টাকা পাননি। গত বছর তিন লক্ষ টাকার কিছু বেশি ছিল পুজোর বাজেট। এ বার তা প্রায় চার লক্ষ টাকা ছুঁতে পারে। তবে শুধু অনুদানের অঙ্ক নয়, বেড়েছে পুজো কমিটির সদস্য সংখ্যাও। প্রথম দিকে ৭০-৮০ জন মহিলা থাকলেও এখন সদস্য প্রায় ১০০।’ এ বার পুজোতে থাকছে পুতুলনাচ, যাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর অষ্টমীর প্রীতিভোজে খাওয়ানো হবে প্রায় দেড় থেকে দু’হাজার মানুষকে। দশমীতে সিঁদুর খেলা এবং মিষ্টিমুখের আয়োজন থাকবে। উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রায় দু’হাজার মানুষকে মিষ্টিমুখ করানো হবে। জায়গার অভাবে রাস্তার ধারে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। এই পুজো শুধু প্রতিমা, মণ্ডপ কিংবা আলোর উৎসব নয়। ধুর্পার মহিলাদের কাছে এটি নিজেদের হাতে তৈরি করে নেওয়া এক সামাজিক পরিসরও। সংসারের কাজের ফাঁকেই পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তাঁরা। পূজো উদ্যোক্তা শম্পা, পিঙ্কি–সহ অন্য সদস্যরা দফায় দফায় আলোচনা করে পুজোর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
ভাতার টাকায় শুরু হয়েছিল পুজো। সেই পুজোই আজ গ্রামের মহিলাদের মিলিত উদ্যোগের পরিচয়। এ বার বাড়তি অনুদানের হাত ধরে চার লাখের বাজেটে সেই উৎসব আরও একটু বড় করে ছড়িয়ে দিতে চাইছেন তাঁরা।
