আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাওড়া জেলে এক বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক। জেলবন্দি অবস্থায় ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা করা হয়নি বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে লিলুয়ার বার্মা কলোনির বাসিন্দা প্রসেনজিৎ ঘোষের। এই ঘটনায় জেল ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন তাঁর মা সুধা ঘোষ।
গত ৫ আগস্ট লিলুয়ার বার্মা কলোনিতে মদ ও জুয়ার আসরে গুলি চালানোর অভিযোগে প্রসেনজিৎকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিচারাধীন বন্দি হিসেবে হাওড়া জেলে ছিলেন। পরিবারের দাবি, প্রথম দিকে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁকে স্বাভাবিকই দেখেছিলেন তাঁর মা। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি বদলে যায়।
সুধার অভিযোগ, ১৩ আগস্ট ছেলেকে গ্রেপ্তারের পর নিয়মিত তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন তিনি। সেই সময় প্রসেনজিতের শারীরিক অবস্থায় তেমন কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। কিন্তু ৩০ আগস্ট, ছেলের জন্মদিনে দেখা করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, প্রসেনজিৎ গুরুতর অসুস্থ। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উদ্বেগ বাড়ে পরিবারের।
এরপর শনিবার রাতে জেল থেকে ফোন করে পরিবারকে জানানো হয়, প্রসেনজিৎকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছন তাঁর মা। সেখানে গিয়ে ছেলের সঙ্কটজনক অবস্থা দেখে ভেঙে পড়েন তিনি। সুধার দাবি, চিকিৎসকেরা তাঁকে জানিয়েছেন, ছেলের লিভার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে।
মৃতের মায়ের আরও অভিযোগ, ছেলের শরীরে বড় কোনও আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন না থাকলেও জেলের ভিতরে তাঁর শারীরিক অবস্থার কীভাবে এতটা অবনতি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা হলে ছেলেকে বাঁচানো যেত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, জেল ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থা এবং চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জেলবন্দিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং অসুস্থ বন্দিদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে জেল ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
