সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তথ্য মেলেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শুক্রবার সৌদি আরবে হুথি হামলায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দণ্ড কার্যকর হওয়া দুই নাগরিকের বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাঠায়নি। তবে বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি চেয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেটি হাতে পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
উল্লেখ্য, মক্কার এক মসজিদে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট জানতে চেয়ে গত ১৫ অক্টোবর জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়। সেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিবরণ ও বিচারিক রায়ের তথ্য চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।
এদিকে হুথি হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তর প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শাহেদের মরদেহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক সংঘাতে এ পর্যন্ত নিহত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রবাসীদের উদ্ভূত সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধের ফলে বহু বাংলাদেশি কর্মী সেখানে আটকা পড়েছেন এবং অনেকের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে যারা আর কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন না, তাঁদের দেশে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
