সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর বাউফল ও দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে দিন-রাত মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। নদী থেকে মাছ ধরে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ও বাড়িতে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে মাছ পৌঁছে দেওয়া এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে মাছ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
মা ইলিশ শিকার ও বিক্রির বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের জনবলসংকটের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করছেন। অভিযানের খবর আগেভাগে জেলেদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া নদীর বাউফল অংশের কাছিপাড়া ইউনিয়নের কারখানা, ধুলিয়া, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদি, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং কালাইয়া ইউনিয়নের বগি এলাকায় মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে দশমিনা উপজেলার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টেও অবৈধভাবে মাছ ধরা ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নদী থেকে ইলিশ শিকারের পর সেগুলো কৌশলে তীরবর্তী এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও বাড়িতে বসে, আবার কোথাও মুঠোফোনে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট স্থানে মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা, তুলনামূলক ছোট ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং জাটকা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার সময় অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার ও বিক্রি বন্ধে নদীতে অভিযানের পাশাপাশি মাছের বাজার, নদীতীরবর্তী এলাকা এবং সন্দেহভাজন বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ ধরা ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দশমিনা উপজেলার কাটাখালি গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান গাজী বলেন, মা ইলিশের অবৈধ বেচাকেনার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কারও অবহেলা কিংবা যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযান অব্যাহত, আরও কঠোর হওয়ার আশ্বাস
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় শুরু থেকেই কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক লাখ মিটার অবৈধ মাছ ধরার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
নদী থেকে মাছ ধরে তীরবর্তী এলাকায় এনে বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে তাঁরা এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও পেয়েছেন। ভিডিওগুলোতে বাড়ি ও নদীতীরবর্তী এলাকায় মাছ বিক্রির দৃশ্য দেখা গেছে। অবৈধভাবে মাছ বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে মৎস্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তেঁতুলিয়া নদীতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে মাছ ধরতে দেওয়া হবে না। এ জন্য প্রশাসনের অভিযান পরিচালনাকারী ট্রলার নিয়মিত নদীতে টহল দিচ্ছে।
অন্যদিকে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালে আহমেদ বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরপরও কিছু অসাধু জেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে মাছ শিকার করছেন।
তিনি বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
