সংবাদ · সাধারণ
পদ্মার ভাঙনে ভেড়ামারায় দুই মাসে ৫০০ বিঘা জমি বিলীন
১৩/১০/২০২৬

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে গত দুই মাসে প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলা এই ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার ঐতিহ্যবাহী পানচাষিরা।স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, গত এক বছরে ভেড়ামারার বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এতে জমি ও পানবরজ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক শ কৃষক।সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, লিসেনদিয়া, রায়টা ও আরকান্দি এলাকায় পদ্মার তীরে তীব্র ভাঙন চলছে। ফারাক্কার প্রভাব ও পানি কমে যাওয়ার পর ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিলীন হওয়া জমিতে মূলত পানের আবাদ হতো। এলাকার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল পানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী 'কুচিয়ামোড়া পানবাজার'। নদীভাঙনের কারণে সেই পানচাষ ও প্রাচীন বাজারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।কুচিয়ামোড়া এলাকার পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ বিঘা করে জমি নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ পাউবো নীরব। আমরা যৌথভাবে আবেদন জানালেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ৩২০ জন পানচাষির তালিকা নিয়েছে। গত এক বছরে প্রায় ৩০ হাজার পিলি পানবরজ নষ্ট হয়েছে, যার ক্ষতিপূরণ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’মাধবপুর এলাকার ভুক্তভোগী পানচাষি আব্দুল জলিল আক্ষেপ করে বলেন, ‘পদ্মার পাড়ে আমাদের ৭ বিঘা জমি ছিল, এখন মাত্র ৪ কাঠা টিকে আছে। এই দুঃখ কাকে বলব!’ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩২০ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভাঙন রোধের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ্দৌলা বলেন, ‘ভেড়ামারার ওই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে তিন কিলোমিটারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, যা আকস্মিক জরুরি সহায়তা দিয়ে রোধ করা সম্ভব নয়। আমরা একটি স্থায়ী প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।’ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভাঙন রোধে পাউবোকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষি ও কৃষকদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗