নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বুধবার (১৩ অক্টোবর) এনবিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কাগজে-কলমে রপ্তানি দেখানো হলেও সরেজমিন তদন্তে সংশ্লিষ্ট কারখানায় কার্যকর উৎপাদন ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। এমনকি উৎপাদনের জন্য স্থাপিত মেশিনপত্রও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানান হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি প্রিভেনটিভ টিম নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বি/২৪০, মিজমিজি দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত ইউএজিএম বিডি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে।
প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর আওতাধীন একটি প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এটি বন্ড সুবিধার আওতায় পিভিসি ফ্লেক্স, পিভিসি ফিল্ম, পিইটি ফিল্ম, আর্টিফিশিয়াল লেদার, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও কালার বোর্ডসহ বিভিন্ন কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে আসছিল।
এনবিআর জানায়, এসব কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন এবং পরবর্তীতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানি দেখানো হতো।
অভিযানকালে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত উৎপাদন তথ্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব মিলিয়ে বড় ধরনের অসংগতি শনাক্ত করেন। বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘোষিত উৎপাদনের তুলনায় বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত কম।
এছাড়া কারখানায় বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ, সৌরবিদ্যুৎ বা গ্যাসচালিত কোনো উৎপাদন ব্যবস্থার অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।
এনবিআর জানায়, পরিদর্শনের সময় উৎপাদনসংশ্লিষ্ট মেশিনগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কারখানার উৎপাদন ফ্লোরেও নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) গ্রহণ করে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানি প্রদর্শন করলেও বাস্তবে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি করেছে।
এনবিআর জানায়, অভিযান-পরবর্তী সময়ে আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব, ইউপি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে সরকার রাজস্ব হারায় এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।
অধিদপ্তর আরও জানায়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্ক ফাঁকি এবং অনিয়ম শনাক্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা ও কারখানার বাস্তব কার্যক্রম বিশ্লেষণের মাধ্যমে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।