জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের জেরে ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। আগামী শনিবার প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভের নামে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের তা করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানান তিনি।
আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার মান নিয়ে আয়োজিত বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এসব ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দাবি এবং সহিংসতার ঘটনাকে আলাদা করে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। আগামী শনিবার নতুন বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থী সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সরকারি জনসেবার উন্নতির দাবিতে এসব কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি চলছে।
গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশ মোতায়েন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। প্রয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে আপাতত দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। তাঁর মতে, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অসন্তোষের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি এবং সরকারি জনসেবায় কাটছাঁট নিয়ে উদ্বেগ। বিক্ষোভকারীদের একাংশ এসব ক্ষেত্রে সরকারের নীতির পরিবর্তন ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন। অন্যদিকে, সরকার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে স্বীকার করলেও ভাঙচুর, লুটপাট ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার বিরোধিতা করছে।
এদিকে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি নেতাদের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন ম্যাক্রোঁ। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন বিদেশি নেতা ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের বিক্ষোভকে অভিবাসন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দেশটিতে উগ্রপন্থী ইসলামের বিস্তার নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভে সরাসরি বিদেশি হস্তক্ষেপের দৃশ্যমান প্রমাণ নেই। তবে ঘটনার পর বিদেশ থেকে তথ্যের অপব্যবহার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফরাসি সরকারের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ—নাগরিকদের অসন্তোষের কারণ মোকাবিলা করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শনিবারের বিক্ষোভে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার ওপর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে।
The post ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি ম্যাক্রোঁর: ‘বিশৃঙ্খলা বরদাশত নয়’ appeared first on ভোরের চেতনা.
