বেশি নুন খাওয়া ক্ষতিকর। আবার প্রয়োজনের তুলনায় কম নুন খেলেও বিপদ। আয়োডিনের ঘাটতি হলে যে সমস্যাটি সবচেয়ে আগে মাথাচাড়া দেয়, তা হল থাইরয়েড। অনেকেই ভাবেন, নুন বেশি খেলে থাইরয়েড হতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত কম নুন খেলে বা খাবারে আয়োডিন কম থাকলে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনীয় থাইরয়েড হরমোন (টি৩ ও টি৪) তৈরি করতে পারে না। ফলে হাইপোথাইরয়েডের সমস্যা দেখা দেয়। আয়োডিনের অভাবে শুধু থাইরয়েড নয়, আরও নানা রোগ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি কেন হয়?
পরিশোধিত বা আয়োডিনহীন নুন খেলে বা সামুদ্রিক নুন বেশি খেলে, শরীরে পর্যাপ্ত আয়োডিন পৌঁছোয় না। এখন নানা রকম নুন বাজারে পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যকর ভেবে সেগুলিই খাওয়া হয়। কিন্তু তাতে আয়োডিন পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকে না। অথচ আয়োডিন লবণ খুবই সহজলভ্য। পাড়ার মুদির দোকান বা রেশন দোকানেই পাওয়া যায়। সাধারণ নুনের থেকে একটু বেশি দাম এই নুনের। কেনার সময়ে লেবেল দেখে নিতে হয়। এমন নুনই শরীরের জন্য ভাল।
খাদ্যাভ্যাসে যদি সামুদ্রিক মাছ বা আয়োডিনযুক্ত খাবার কম থাকে এবং অতিরিক্ত পরিমাণ কফি, অ্যালকোহল বা পরিশোধিত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি থাকে, তা হলেও আয়োডিনের ঘাটতি হয়।
আয়োডিনের অভাবে কী কী সমস্যা হতে পারে?
রক্তে আয়োডিন কমে গেলে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীরে হয়। থাইরয়েডের সমস্যা তো হয়ই, পাশাপাশি ক্লান্তি বাড়ে, চামড়া খসখসে হয়ে যায়।
অন্তঃসত্ত্বাদের শরীরে আয়োডিনের মাত্রা কমে গেলে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হতে পারে। তাই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পর্যাপ্ত মাত্রায় আয়োডিন খেতে বলা হয়।
মহিলাদের ক্ষেত্রে আয়োডিনের অভাবে প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যাও হতে পারে। হরমোনের গোলমাল হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
আয়োডিন শরীরের বাড়বৃদ্ধি, বুদ্ধির বিকাশেও সহায়ক। তাই শিশুর শরীরে আয়োডিনের মাত্রা কমে গেলে বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে। মস্তিষ্কের বিকাশও ঠিকমতো হবে না।
আয়োডিনের অভাবে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং চুল পড়তে শুরু করে।
আয়োডিনের ঘাটতি মেটাতে রোজের খাবারে দুধ, ছানা, পনির, ডিম রাখতেই হবে। ডিমের কুসুমে আয়োডিন থাকে। এ ছাড়া আলু, পালংশাক ও কলা থেকেও আয়োডিন পাওয়া যায়। এখন টেবল সল্ট বা সাদা নুনের ব্যবহার কমেছে অনেক বাড়িতেই। যার ফলে বহু মানুষের মধ্যে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, যদি কেউ আয়োডাইজ়ড নুন খেতে না চান, তা হলে অন্যান্য খাবারের মাধ্যমে যেন আয়োডিনের ঘাটতি মেটে তা খেয়াল রাখতে হবে।
