মাগুরা পৌর বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে যুবদল নেতা মোঃ শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে কাউন্টারে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের সময় তার মাথার ভেতর থেকে গুলির আলামত উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে টার্গেট কিলিংয়ের আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেছেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান। এ ঘটনায় দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী বিশ্বাসপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পৌর বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
আরও পড়ুন
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাঃ কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, ময়নাতদন্তের সময় শাকেরের মাথার পেছনের আঘাত পরীক্ষা করে মাথার ভেতর থেকে গুলির আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পরে দেওয়া হবে।
ঘটনার বিষয়ে কাউন্টারের আরেক পরিচালক বিপুল কুমার দাস জানান, এক যাত্রীর বরাত দিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, কাউন্টারের কাছাকাছি একটি মোটরসাইকেল আসার পর গুলির মতো শব্দ শোনা যায়। পরে মোটরসাইকেলটি দ্রুত চলে যায় বলে ওই যাত্রীর স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে মোটরসাইকেলটির সঙ্গে শাকেরের মৃত্যুর ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শাকেরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পৌর বাস টার্মিনালের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। পরে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে তার অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম ও ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, তারা শুরু থেকেই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন। ময়নাতদন্তে গুলির আলামত পাওয়ার তথ্য সামনে আসায় দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা।
মাগুরা সদর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ জুলফিকার তুষার বলেন, সাকের দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ মাগুরার মানুষ শোকাহত। তিনি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি বাস টার্মিনালকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন।
পরিবহন কাউন্টার মালিক সমিতির সেক্রেটারি মোহাম্মদ রানা মোল্লা বলেন, বাস টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ঘটনা পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং টার্মিনালে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি। পরিবহনসংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিরাও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও টার্মিনালের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, শাকেরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনার বিভিন্ন দিক ও আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি।
সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান বলেন, শাকেরের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে শাকের সামনের সারিতে ছিলেন। এইটা একটা—এইটা একটা টার্গেট কিলিং, এই ঘটনাটা কিন্তু টোটাল মাগুরার জন্য একটা ভিন্ন মেসেজ। আমরা জীবনে কখনোই মাগুরাতে কিন্তু এরকম টার্গেট কিলিং হয়নি। এর আগে কিছু কোয়াস্টায়ার হয়েছে, কিছু ভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটেছে, কিছু খারাপ লোকের অপমৃত্যু হয়েছে, কিন্তু এরকম একটা তরতাজা প্রাণ ১৭ বছর যে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিল।
ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে ঘটনার সব দিক নিশ্চিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
শাকেরের পরিবারে দুটি ছোট সন্তান রয়েছে এবং তার মা অসুস্থ উল্লেখ করে সংসদ সদস্য পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি পৌর বাস টার্মিনালে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
মোঃ কাসেমুর রহমান শ্রাবণ/এসএন
