আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিশুদের খাবারের পছন্দ গড়ে ওঠার পিছনে কাজ করে নানা ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব। বিশেষ করে মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাণীদের প্রতি আবেগ বা সহানুভূতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে একটি গবেষণা। মুরগির নাম রাখলেই কি শিশুদের মাংস খাওয়ার ইচ্ছায় বদল আসতে পারে? গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মুরগির মত প্রাণীকে একটি নির্দিষ্ট নাম দিয়ে পরিচিত করালে প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের কিছু শিশুর মাংস খাওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে, যখন শিশুদের কল্পনায় তৈরি স্যান্ডউইচে মুরগির মাংস বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রাণীটির নাম জানার পর তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুরগির মাংস এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর পিছনে কাজ করতে পারে প্রাণীদের সঙ্গে শিশুদের মানসিক সংযোগ। কোনও প্রাণীকে শুধু খাবারের উপাদান হিসেবে না দেখে যখন তার একটি নাম দেওয়া হয়, তখন তাকে আলাদা সত্তা হিসেবে ভাবতে শুরু করতে পারে শিশুরা। ফলে সেই প্রাণীকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাদের মনে দ্বিধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে এই প্রভাব সবার ক্ষেত্রে সমান ছিল না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব শিশু মাংস খেতে বেশি পছন্দ করে, তাদের সিদ্ধান্তে মুরগির নামকরণের প্রভাব তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। অর্থাৎ, প্রাণীকে নাম দেওয়ার মত বিষয় কিছু শিশুর খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব ফেললেও, যাঁদের মাংস খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বেশি, তাঁদের পছন্দ সহজে বদলায় না।
এই গবেষণা শিশুদের খাদ্যাভ্যাস এবং প্রাণীদের প্রতি তাদের আবেগের সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিক তুলে ধরেছে। ছোটবেলা থেকেই প্রাণীদের সম্পর্কে শিশুদের ধারণা কীভাবে তৈরি হয় এবং সেই ধারণা তাদের খাবার বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করে, তা নিয়ে আরও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
তবে এই ফলাফল থেকে এমনটা বলা যায় না যে, মুরগির নাম রাখলেই সব শিশু মাংস খাওয়া ছেড়ে দেবে। বরং গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয়, খাবারের সঙ্গে জড়িত প্রাণী সম্পর্কে শিশুদের মানসিক ধারণা তাদের খাদ্য নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
