ইউক্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার সংযোগ সীমিত করার কথা স্বীকার করেছেন স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। এর আগে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দেশটিতে স্টারলিংকের সংযোগজনিত সমস্যা কেটে গেছে এবং সেবা আবার স্বাভাবিক হয়েছে।
সামরিক অভিযানে বেসামরিক বাণিজ্যিক সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে স্টারলিংকের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন মাস্ক। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ‘স্টারশিল্ডে’ দেখা দেওয়া সমস্যার জন্য তিনি দায়ী নন বলে দাবি করেছেন।
মাস্কের সর্বশেষ বক্তব্য নিয়ে ইউক্রেনের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সের্হি বেস্ক্রেস্তনভ তার পোস্টকে খুবই অদ্ভুত বলে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে ইউক্রেনের সংযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন মাস্ক। ইউক্রেনের দাবি, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংযোগ সমস্যায় তাদের প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযান ব্যাহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা নিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে বিরোধের মধ্যে এ সংকট সামনে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি মাস্ককে স্টারলিংক সেবা আবার চালু করতে বলেছেন। তবে এর আগে তিনি বারবার অস্বীকার করেছিলেন যে মাস্ককে সেবা সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক লেখেন, ‘মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলায় বেসামরিক বাণিজ্যিক সেবা স্টারলিংক ব্যবহার কখনোই অনুমোদিত ছিল না, আর তা হওয়াও উচিত নয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্টারলিংকের ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘন করে মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলায় এটি ব্যবহার করেছে। গত সপ্তাহে সেই ফাঁক বন্ধ করা হয়েছে।’
মাস্কের দাবি, পৃথিবীর অন্য যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্পেসএক্স ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় বেশি অবদান রেখেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, স্টারশিল্ড সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থা এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে। ওই ব্যবস্থা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব মার্কিন সরকারের।
পরে আরেকটি পোস্টে মাস্ক বলেন, সামরিক অবকাঠামোয় স্টারলিংক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এমন সরাসরি আক্রমণ চালাতে এটি ব্যবহার করা যাবে না, যার জবাবে পাল্টা হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি হয়।
মাস্কের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বেস্ক্রেস্তনভ টেলিগ্রামে লেখেন, ইউক্রেনে ব্যবহৃত স্টারলিংক টার্মিনালগুলো ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতির মধ্যে সীমাবদ্ধ। রাশিয়ার ভূখণ্ডে এগুলো কাজও করে না।
তিনি বলেন, ‘তাই বাণিজ্যিক স্টারলিংক ব্যবহার করে আমরা রাশিয়ার ভেতরে কিংবা মাঝারি পাল্লার হামলা চালাতে পারি না। ইউক্রেনে স্টারলিংকের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ইলন মাস্ক জানেন না; এটা খুবই অদ্ভুত।’
যোগাযোগের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউক্রেন বেসামরিক স্টারলিংক ও অধিক সুরক্ষিত স্টারশিল্ড; দুই ব্যবস্থাই ব্যবহার করে। স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ করা নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এ দুই ব্যবস্থাই পরিচালিত হয়।
যুদ্ধক্ষেত্রে বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় সেনাদের মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, স্টারশিল্ডের মাধ্যমে ইউক্রেনের ড্রোন পরিচালকেরা লক্ষ্যবস্তু সরাসরি দেখতে এবং আকাশে ড্রোন প্রতিহত করার ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন।
রাশিয়া স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন পায়নি। ফলে রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগারে আঘাত হানতে ইউক্রেন যখন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন পাঠায়, তখন ওই নেটওয়ার্ক সেখানে কাজ করে না।
শনিবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারা জানান, সামরিক বাহিনী এখন স্টারলিংকে স্থিতিশীল সংযোগ পাচ্ছে। তার তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনগুলো এখন ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলতে পারছে। এর আগে কিয়েভ জানিয়েছিল, ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও টেলিগ্রামে লেখেন, ‘এখন গতি প্রয়োজনীয় পর্যায়ে রয়েছে।’
তবে গত সপ্তাহে ইউক্রেনে স্টারলিংকের ব্যাপক ব্যবহার সম্পর্কে বহু বছর ধরে অবগত থাকার পরও স্পেসএক্স কেন সেবায় পরিবর্তন এনেছিল, সে বিষয়ে মাস্ক কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
সূত্র : বিবিসি
