অনেকেই বাড়িতেই ঠিকমতো হাওয়া চলাচলের জায়গা থাকে না। ঘর বারবার মোছা সত্ত্বেও গুমোট ভাব রয়ে যায় হাওয়ায় বাতাসে। ফলে ঘন ঘন রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করেন। অথবা ধূপ-কর্পূর রাখেন ঘরের এক অংশে। কিন্তু এই ধরনের গন্ধে দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাস না নেওয়াই ভালো। এতে শরীরের ক্ষতি হয়। অনেকেরই মাথা ধরা, চোখ জ্বালা হওয়ার মতো সমস্যাও বেড়ে যায়।
কৃত্রিম সুগন্ধির বদলে বাড়িতে রাখতে পারেন সুগন্ধি ফুলের গাছ (Fragrant Flowers)। শুধু ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোই নয়, এই ফুলগুলি তাদের স্বাভাবিক সুবাসে ঘরের পরিবেশেও আনবে অন্য রকম আমেজ।
১. বেলি ফুল
সাদা বেলি ফুলের মিষ্টি, মন মাতানো গন্ধের সঙ্গে বাঙালির পরিচয় বহু দিনের। সন্ধ্যার দিকে বেলি ফুলের সুবাস আরও বেড়ে যায়। রোদ আসে এমন বারান্দা বা জানলার ধারে টবে বেলি গাছ রাখতে পারেন। গাছের ভাল বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত আলো এবং জলনিকাশের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
২. জুঁই ফুল
ছোট সাদা ফুলে ভরে উঠলে গাছটি দেখতে যেমন সুন্দর লাগে, তেমনই তার সুবাসও আশপাশের পরিবেশকে সতেজ করে তোলে। টবে জুঁই গাছ লাগানো যায়। তবে গাছের ধরন অনুযায়ী রোদ, জল এবং পরিচর্যার ধরন কিছুটা আলাদা হতে পারে।
৩. রজনীগন্ধা
নামেই যার পরিচয়, সেই রজনীগন্ধার সুবাস সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে বিশেষভাবে নজর কাড়ে। বাড়ির বাগানে কিংবা বারান্দার টবে রজনীগন্ধা লাগাতে পারেন। ফুলের স্টিক কেটে ফুলদানিতে রাখলেও ঘরে ছড়িয়ে পড়ে তার গন্ধ। তবে ফুলদানির জল নিয়মিত বদলে দেওয়া উচিত।
৪. গোলাপ
সব গোলাপের গন্ধ এক রকম নয়—কিছু জাতের সুবাস বেশ তীব্র, আবার কিছু জাতের গন্ধ তুলনায় হালকা। বাড়িতে গোলাপ গাছ রাখতে চাইলে সুগন্ধি জাত বেছে নিন। পর্যাপ্ত রোদ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং জলনিকাশের ব্যবস্থা থাকলে টবেও ভাল হয় গোলাপ গাছ।
৫. গন্ধরাজ
সাদা গন্ধরাজ ফুলের মিষ্টি সুবাস ঘরের পরিবেশে এনে দেয় সতেজতা। গাছটি বারান্দা বা বাগানে রাখলে ফুল ফোটার সময়ে তার গন্ধ উপভোগ করতে পারবেন। গন্ধরাজের জন্য উজ্জ্বল আলো, আর্দ্র মাটি এবং ভাল জলনিকাশ প্রয়োজন। গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত জল জমতে দেবেন না।

৬. মাধবীলতা
বাড়ির গেট, বারান্দার গ্রিল কিংবা বাগানের মাচা সাজাতে মাধবীলতা বেশ উপযোগী। এই লতানো গাছে ফুল ফুটলে সৌন্দর্যের পাশাপাশি মেলে মিষ্টি সুবাসও। বেড়ে ওঠার জন্য গাছটির একটি অবলম্বন প্রয়োজন। পর্যাপ্ত আলো এবং নিয়মিত পরিচর্যা পেলে মাধবীলতা বাড়ির ছোট্ট বাগানকেও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
