Published on
:
2 min read
কয়েকমাস হলো ছেলে হারিয়ে গিয়েছে। থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। অপেক্ষায় দিন কাটছে মা-বাবার। এর মাঝেই শনিবার সকালে ফোন আসে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির। ছেলেকে ফিরে পেতে দিতে হবে কয়েকটা জিনিস। তালিকা শুনে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। চাওয়া হয়েছে– হরিণের ছাল, হরিণের দুধ, লাল কাপড়, কস্তুরী ও চারটি লেবু। এই সমস্ত সামগ্রী চাওয়ার সঙ্গে ছিল প্রচ্ছন্ন হুমকিও। আতঙ্কে থানায় হাজির সিউড়ির লাঙুলিয়ার বাসিন্দা লাল্টু বাউড়ি।
লাল্টু বাউড়ি জানান, তাঁর ছেলে বছর বাইশের রঞ্জন বাউরি মানসিক ভাবে অসুস্থ। ছেলেকে নিয়ে কয়েকমাস আগে বর্ধমানে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে কোনওভাবে রঞ্জন পালিয়ে যান বর্ধমান স্টেশন থেকে। বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। তাঁকে খোঁজার জন্য বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগান বাড়ির লোকজন। রঞ্জনের ছবি, বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিয়ে পোস্টার লাগানো হয়। কিন্তু ছেলের খোঁজ মেলেনি।
হঠাৎ শনিবার সকালে তাঁদের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে দাবি করা হয়, রঞ্জনকে বাড়ি ফেরাতে হলে দিতে হবে হরিণের ছাল, হরিণের দুধ, লাল কাপড়, কস্তুরী ও চারটি লেবু। তা না জোগাড় করতে পারলে ৩,৫৩০ টাকা পাঠাতে হবে। যাতে সেই টাকা দিয়ে ফোনের অন্য প্রান্তে থাকা লোক ওই সমস্ত সামগ্রী কিনতে পারেন৷ এমনকী টাকা পাঠানোর জন্য কিউআর কোডও পাঠানো হয়। এ সব শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রঞ্জনের বাড়ির লোকজন৷
রঞ্জনের বাবা লাল্টু বাউড়ি বলেন, ‘আমাদেরকে ফোন করে বলা হয়, ওই জিনিসগুলো না দিলে ছেলে বিক্রি হয়ে যাবে। ছেলে তাঁদের কাছেই আছে, আমরা সেই প্রমাণ চাইছি। কিন্তু কিছুই দিচ্ছে না৷ কেবল ফোন করে জ্বালাতন করছে।’ রঞ্জনের কাকা রবীন বাউড়ি বলেন, ‘ভাইপো চিকিৎসা করাতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। ওই পাঁচটা সামগ্রী দেওয়া হলে সকাল এগারোটার মধ্যে ছেলেকে ফেরত দেওয়া হবে বলা হয়েছে।’
পরিবারের লোক আতঙ্কিত হয়ে দ্বারস্থ হয়েছে সিউড়ি থানার। যদিও প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ধারণা, এটি একটি আর্থিক প্রতারণার টোপ। পোস্টার থেকে নম্বর পেয়েই এই ফোন করেছে কোনও প্রতারক। ফোন নম্বরের টাওয়ার লোকেশন যাচাই করে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
