হবিগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ১২:০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ৫৫ বিজিবি।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আওতায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এসব এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি পূজারি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় দিবা-রাত্রি টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। কাজ করছে বিশেষ মোবাইল টিমও।
বিজিবি সূত্র জানায়, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ৬৩টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে আরও একটি পূজামণ্ডপ। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান, বিজিওএম চুনারুঘাটের আমু চা-বাগান পূজামণ্ডপ ও মাধবপুরের ঘিলাতলী জগন্নাথ দেবের আখড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। দুর্গাপূজা বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাসহ সর্বত্র পূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে বিজিবি পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধেও সতর্ক রয়েছে বিজিবি। এ কাজে আধুনিক নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
৫৫ বিজিবি পূজা উদযাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক ব্যক্তি, কার্যকলাপ এবং গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি জাতীয় ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দায়িত্ব পালন করছে।

