বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার দিন দিন হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এর অন্যতম কারণ অব্যবস্থাপনা। কোথাও ড্রেনের নোংরা পানি, আবার কোথাও ছড়িয়ে রয়েছে জীর্ণ জিও ব্যাগ। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কক্সবাজারের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন অংশে বালুচরে পড়ে থাকতে দেখা যায় প্লাষ্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ডাব ও কলার খোসা, খাবারের উচ্ছিষ্টসহ নানা ধরনের বর্জ্য। কলাতলী পয়েন্টে দেখা যায়, ড্রেনের নোংরা পানি সড়কের ওপর দিয়ে সৈকতের দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে। বালুর বস্তা দিয়ে সেটা ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ড্রেন ও বিভিন্ন স্থাপনার নোংরা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ার সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
কুমিল্লার ধর্মপুর থেকে আসা পর্যটক সাইমন কিবরিয়া বলেন, “পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সৈকতে ঘুরতে এসে এমন পরিবেশ দেখে খারাপ লেগেছে। সৈকতের মতো সুন্দর এলাকায় এত আবর্জনা দেখলে হাঁটাচলা, সমুদ্রে গোসল করা ও স্বাভাবিকভাবে সময় কাটাতে নিশ্চয়ই ভালো লাগবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, “কিছু হোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সৈকতের বালুচরে ফেলা হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এসব বর্জ্য নিয়মিত অপসারণ না করায় সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকে। এতে পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়ায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয় না।”
পর্যটকরা জানান, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা দেখে ও দুর্গন্ধ পেয়ে তারা হতাশ। বিশেষ করে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সৈকতে ঘুরতে এসে এমন পরিবেশে স্বস্তিতে সময় কাটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে জিও ব্যাগের ওপর বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। যা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ
কুমিল্লার ধর্মপুর থেকে আসা পর্যটক সাইমন কিবরিয়া বলেন, “পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সৈকতে ঘুরতে এসে এমন পরিবেশ দেখে খারাপ লেগেছে। সৈকতের মতো সুন্দর এলাকায় এত আবর্জনা দেখলে হাঁটাচলা, সমুদ্রে গোসল করা ও স্বাভাবিকভাবে সময় কাটাতে নিশ্চয়ই ভালো লাগবে না।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের মূল আকর্ষণ সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কিন্তু, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সেবার অনিয়মের অভিযোগ এবং পর্যটন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঘাটতি এই আকর্ষণকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা প্রসেনজিৎ শর্মা বলেন, “কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে এসেছি। কিন্তু সৈকতের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে খারাপ লেগেছে। পর্যটন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।”
সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন বলেন, “আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকানের বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক পর্যটক যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলায় পুরো এলাকার পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, “কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের মূল আকর্ষণ সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কিন্তু, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সেবার অনিয়মের অভিযোগ এবং পর্যটন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঘাটতি এই আকর্ষণকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু বলেন, “সৈকতে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য জমে থাকা শুধু সৌন্দর্য নষ্টের বিষয় নয়, এটি সামুদ্রিক পরিবেশের জন্যও হুমকি। তাই সৈকতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদেরও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।”
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, “কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনার কাজ করতে গিয়ে সড়কে পানি ফেলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।”
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান বলেন, “পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট স্থানে যে পানি জমেছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
