গুরুতর অসুস্থ যোগেন চৌধুরী। অশীতিপর শিল্পী দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের সম্মতিতে শনিবার তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে সূত্রে খবর, বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দুরারোগ্য ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত শিল্পী। চিকিৎসা চলছিল তাঁর। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময় তিনি আক্রান্ত হন মূত্রনালীর সংক্রমণে। সেই থেকেই ভর্তি হাসপাতালে। চিকিৎসক ডা. তুফান কান্তি দোলাইয়ের অধীনে চিকিৎসা চলছে প্রখ্যাত শিল্পীর।
জানা গিয়েছে, গত চোদ্দমাসে একাধিক কেমো দেওয়া হয়েছে শিল্পীকে। শিল্পীর অসুস্থতায় চিন্তিত বাংলা তথা সারা ভারতবর্ষের আর্ট জগৎ। শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক কবি নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বিগ্ন যোগেন চৌধুরীকে নিয়ে। নীলাঞ্জনবাবু জানিয়েছেন, শুধু এ বঙ্গের তো নয়, বাংলার গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির শিকড় থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক শিল্পজগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী। ১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে যোগেনবাবুর জন্ম। দেশভাগের সময় কলকাতায় চলে আসা, এখানেই শিল্পশিক্ষা, পরে প্যারিসে উচ্চশিক্ষা এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটরের দায়িত্ব পালন।
তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার এবং শিল্পানুরাগী। যোগেনের মা ছিলেন আলপনা আঁকায় দক্ষ। পারিবারিক এই শিল্পচর্চাই ছোটবেলা থেকে যোগেনের মধ্যে ছবি আঁকার আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করে। দেশভাগের ঠিক আগে বাবার সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন যোগেন। ১৯৪৮ সালে পরিবারের অন্য সদস্যরাও কলকাতায় চলে আসেন। প্রথম দিকে কাকার কোয়ার্টারে থাকার সময় দেওয়ালে ছবি এঁকেছিলেন তিনি। ১৯৫১ সালে পরিবারটি ঢাকুরিয়ার শহিদনগর কলোনিতে চলে আসে। ১৯৫৫ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফটে ভর্তি হন। ১৯৬০ সালে সেখান থেকে পাশ করার পর হাওড়া জেলা স্কুলে শিল্পের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীকালে মাদ্রাজেও টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসে শিল্পশিক্ষার জন্য যান যোগেন।
