October 23, 2026, 1:02 pm
জ্ঞানেশের অনিয়ম নিয়ে দুই কমিশনারের চিঠি জ্ঞানেশের কাছেই ফেরত পাঠান কেবিনেট সচিব
Reporter Name
- Update Time : Friday, October 23, 2026
- 14 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজের দায়িত্ব বণ্টন এবং বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের অসন্তোষের বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী কমিশনের দাপ্তরিক কাজের বিন্যাস পরিবর্তন এবং গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁরা এই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব টিভি সোমনাথনকে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেন। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ সচিব সেই চিঠিগুলোর ভিত্তিতে কোনো নির্বাহী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে সেগুলোকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দপ্তরে পাঠিয়ে দেন। তথ্য অধিকার আইনে সংগৃহীত সরকারি নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই প্রশাসনিক বিরোধের বিষয়টি প্রথম জনসমক্ষে আসে।
তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথিপত্র থেকে জানা যায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব সোমনাথন দুই কমিশনারের পাঠানো চিঠিগুলোকে তাঁদের ব্যক্তিগত ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, চিঠিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হলেও সেগুলোকে নির্বাচন কমিশনের কোনো আনুষ্ঠানিক ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না। তবে একই সঙ্গে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ ও কার্যকালের মেয়াদ সংক্রান্ত আইন স্মরণ করিয়ে দেন। ওই আইনের ধারা অনুযায়ী কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যতামূলক। তিন সদস্যের এই সাংবিধানিক কমিটিতে দুই কমিশনার একই বিষয়ে আপত্তি তোলায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের অবস্থান সংখ্যাগরিষ্ঠতার নির্দেশক ছিল।
দুই কমিশনারের পাঠানো চিঠিতে মূলত নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গর্গের একচ্ছত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার ভানু প্রকাশ ইয়েতুরু ছুটি নেওয়ার পর সেই অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল গর্গকে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গর্গ নিজের চেয়ে পদমর্যাদায় সিনিয়র ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের কাজের দায়িত্ব বণ্টন করে একটি নতুন নির্দেশ জারি করেন। কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু অভিযোগ করেন যে, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের কোনো অনুমোদন বা আলোচনা নেওয়া হয়নি। এমনকি এটি প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন।
অপর কমিশনার বিবেক যোশীও তাঁর চিঠিতে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ তুলে জানান যে, কাজের পুনর্বণ্টনের বিষয়ে কমিশনকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তিনি প্রশাসন বিভাগের কাছে এ সংক্রান্ত ফাইল দেখতে চাইলেও তাঁকে তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো হয়। গর্গের এই দায়িত্ব বণ্টনের ফলে ভোটার তালিকার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং বিশেষ করে ইসিআইনেট সফটওয়্যারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়। কমিশনারদের আশঙ্কা ছিল, এর ফলে ভোটার সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যভান্ডারের ওপর নজরদারির মূল স্তরটিই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ভেতরের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মতবিরোধের চিত্রটিই জোরালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


