যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা, প্রশ্নপত্র বাইরে যাওয়ার পথ এবং টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন সংগ্রহকারী চাকরিপ্রার্থীদের শনাক্ত করতে শুরু হয়েছে নানামুখী তদন্ত। রবিবার মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন-১) আতিকুর রহমান। অন্যদিকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে গতকাল ১২টি ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মুঠোফোনসহ বিভিন্ন আলামত রয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে এসব ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন,
‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে যেসব ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে আমরা আশাবাদী।’
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সিআইডির সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর সঙ্গে কারা কীভাবে যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, সে বিষয়েও চলছে অনুসন্ধান। পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গত কয়েক দিনের ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর মতিঝিলের জীবন বীমা টাওয়ারে প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাজ শুরু হয়। শনিবার সকাল ৯টায় তা শেষ হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র কীভাবে ফাঁস হলো, তা তদন্তের অন্যতম বিষয়।
তদন্তে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। দ্বিতীয়ত, টাকার বিনিময়ে যেসব চাকরিপ্রার্থী প্রশ্ন পেয়েছেন তাদের খুঁজে বের করা। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ধারণা, প্রশ্ন পাওয়া প্রার্থীদের শনাক্ত করা গেলে প্রশ্ন ফাঁসের মূল চক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্তে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিও কাজ শুরু করেছে। কমিটির প্রধান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. মাহফুজুল আলম খান গতকাল রাতে আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা তদন্তকাজ শুরু করেছি। এরই অংশ হিসেবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছি। ঘটনার বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। তবে মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।’
গত শনিবার রাজধানীর ৯৮টি কেন্দ্রে উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদে নিয়োগের জন্য আয়োজিত এ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বিভিন্ন দাবিতে শনিবার রাজধানীর অন্তত আটটি স্থানে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি : প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে গতকাল দুপুরে দিলকুশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘেরাও করে জাতীয় যুবশক্তি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠনটির নেতাকর্মীরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, নিয়োগে অনিয়ম বন্ধ এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি জানান। এ ছাড়া বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের আহ্বান জানান তারা।
