ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির গুলিতে নিহত হন রোমান (৩৫)। এবার সেই বিজিবির করা মামলার ২ নম্বর আসামি তিনিও। মামলার এজাহারে তার নামের আগে ‘মৃত’ শব্দটিও উল্লেখ রয়েছে।
বিজিবির গুলিতে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের এক দিন পর সামনে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে হালুয়াঘাট উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের জলজলিয়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গুলিতে নিহত হন রোমান। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবির কড়াইতলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার নায়েক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় মামলাটি করেন। এতে রোমানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চোরাচালানবিরোধী অভিযানে চারটি গরু আটকের পর বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ার পরও হামলা ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গুলি বের হয়ে রোমান নিহত হন।
বিজ্ঞাপন
অথচ ওই মামলাতেই তাকে আসামি করা হয়েছে। ফলে একই ঘটনার বর্ণনায় নিহত ব্যক্তি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে রোমানের নাম উঠে এসেছে।
চার গরু আটকের পর হামলার অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সীমান্ত পিলার ১১১৯ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় এক হাজার গজ দূরে ঝলঝলিয়া এলাকায় ভারত থেকে অবৈধ পথে চারটি গরু আনার খবর পান বিজিবি সদস্যরা। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুগুলো আটক করেন। আটক গরুগুলোর মধ্যে দুটি লাল ও দুটি সাদা রঙের। এজাহারে গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গরু নিয়ে ফেরার পথে ঝলঝলিয়া এলাকায় বিজিবি সদস্যদের পথরোধ করেন চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিরা। এসময় দেশীয় অস্ত্র, ধারালো রামদা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা আটক চারটি গরুর মধ্যে দুটি ছিনিয়ে নিয়ে যান। বাকি দুটি গরু নিজেদের হেফাজতে রাখেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বিজিবি সদস্যরা চারটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপরও হামলা অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে গুলি বের হয়ে রোমান (৩৫) নিহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
মামলার ২ নম্বর আসামি নিহত রোমান
মামলায় নাম উল্লেখ করা তিন আসামির মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি রোমান। এজাহারে তাকে হালুয়াঘাটের বেতকুড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার নামের আগে ‘মৃত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন হালুয়াঘাটের সংগ্রা গ্রামের তোলা মিয়ার ছেলে আতিকুল ইসলাম (৪০) এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আবদুল্লাহ (৩৫)। তাদের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আগের দিনই গুলিতে মৃত্যুর খবর জানায় বিজিবি
রোমানের মৃত্যুর পর সোমবার সকালে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, চোরাচালানবিরোধী অভিযানের সময় টহল দলের ওপর হামলা হলে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়া হয়। এতে রোমান গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বিজিবির একজন সদস্য আহত হন।
৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। বিজিবির বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় টহল দলের ওপর হামলার পর আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়া হয়।
বিজ্ঞাপন
মৃত্যুর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
রোমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সকালে হালুয়াঘাট পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের থানা রোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয়রা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হালুয়াঘাট থানার ওসি জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এক চোরাকারবারি নিহত হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করেন এবং সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে রাতে এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। ওই মামলায় নিহত রোমানকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বিজিবির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হোসাইন সুলভ/এসআর/জেআইএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
