উইন্ডিজ়ের কাছে হারের পর বিস্ফোরণ ভারতীয় ক্রিকেট মহলে। ছবি: BCCI
Published on
:
2 min read
প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ (Mohammad Kaif) ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের ২৪ রানে হারের পর দলের নির্বাচন ও বোলিং আক্রমণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বদলে ব্যাটিং গভীরতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। হায়দরাবাদে এই ম্যাচে ভারত চার জন বিশেষজ্ঞ বোলার ও দু’জন অলরাউন্ডারকে নিয়ে খেলতে নেমেছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি। ২০ ওভারে তিন উইকেটে ২৪৭ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। রান তাড়া করতে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং করেও ২২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে ২-২ ব্যবধানে সমতা ফিরিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা।
ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিংয়ে জোর দেওয়ার পরামর্শ কাইফের
ভারতের দল নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কাইফের বক্তব্য, ব্যাটিং গভীরতা বাড়ানোর চেয়ে বিশেষজ্ঞ বোলারদের উপর বেশি ভরসা করা উচিত ছিল দলের। তাঁর মতে, আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটার থাকাটা সাহসী সিদ্ধান্ত নয়। বরং ব্যাটিং সহায়ক পিচে পাঁচ জন দক্ষ বোলার নিয়ে খেলাই আসল সাহসের পরিচয়।
কাইফ বলেন, ‘আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটার থাকা সাহসিকতা নয়। ভালো ব্যাটিং পিচে নিজেদের সেরা বোলারদের খেলানোই আসল সাহসের পরিচয়। সাত জন ব্যাটার এবং পাঁচ জন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে খেলাটা সাহসী সিদ্ধান্ত। সেই পাঁচ জনের মধ্যে অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেলকেও রাখা যেতে পারে। প্রতিপক্ষকে ২৫০ রান করতে দিয়ে তার পর সেই রান তাড়া করে জিতব, এমন ভাবনাকে সাহসিকতা বলে না। পাঁচ জন প্রধান বোলার খেলালে এত বেশি রান তাড়া করার প্রয়োজনই পড়ত না। পিচ যত বেশি ব্যাটিং সহায়ক হবে, তত বেশি বিশেষজ্ঞ বোলারকে দলে রাখা উচিত।’
কুলদীপকে না খেলানো নিয়েও প্রশ্ন
চলতি সিরিজ়ে ভারতের বোলিংয়ের দুর্বলতা বারবার সামনে এসেছে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ রানের লক্ষ্য দিয়েও জিততে পারেনি ভারত। তৃতীয় ম্যাচে ১৪ রানে জিতলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ২০৯ রান তুলেছিল। চতুর্থ ম্যাচেও ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের বড় রান করা আটকাতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। এই পরিস্থিতিতে কুলদীপ যাদবকে প্রথম একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কাইফ। তাঁর মতে, হায়দরাবাদের পিচে বাঁ হাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ কার্যকর হয়ে উঠতে পারতেন। কাইফ বলেন, ‘আমি কুলদীপ যাদবকে খেলাতাম। এই হায়দরাবাদের পিচেই নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন রশিদ খান। আইসিসি ক্রমতালিকায় প্রথম চার জন স্পিনারের প্রত্যেকেই লেগ স্পিনার। তাই ব্যাটিং সহায়ক পিচে কুলদীপ আরও কার্যকর হতে পারতেন।’
কুলদীপের বোলিংয়ের ধরনও এই পিচে সুবিধা করে দিতে পারত বলে মনে করেন কাইফ। তাঁর দাবি, ‘বল করার গতি বদলানো এবং হায়দরাবাদের পিচ থেকে পাওয়া বাড়তি বাউন্স কুলদীপকে সাহায্য করতে পারত। ভারত চাইলে একজন ব্যাটারকে বাদ দিয়ে অনায়াসেই আরও একজন বোলারকে খেলাতে পারত।’
শেষ ম্যাচে সিরিজ় জয়ের লড়াই
চতুর্থ ম্যাচের পর পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে এখন ২-২ সমতা। ফলে শনিবার বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিই ঠিক করে দেবে সিরিজ়ের বিজয়ী দল কে হবে। তার আগে ভারতের দল নির্বাচন এবং বোলিং আক্রমণের ভারসাম্য নিয়ে কাইফের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।