আজকাল ওয়েবডেস্ক: গরু কিনেছিলেন অনেক আশা নিয়ে। ভেবেছিলেন, বাড়িতে দুধের অভাব মিটবে। বিক্রেতার কথায় ভরসা করে খরচ করেছিলেন ৩২ হাজার টাকা। কিন্তু বাড়িতে আনার পরেই যেন সব হিসাব ওলটপালট! কথা ছিল, গরু দুধ দেবে ৮ থেকে ১০ লিটার। বাস্তবে মিলছে মাত্র ৩ লিটার। এত টাকা খরচ করে শেষ পর্যন্ত ঠকে গিয়েছেন বলে দাবি মালিকের। আর সেই অভিযোগের সুরাহা চাইতে সোজা হাজির হলেন থানায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের গুড়গুড়িপালে এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ১৫ দিন আগে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর সদরের গুড়গুড়িপাল থানার অন্তর্গত সনকাডাঙ্গা এলাকার এক বাসিন্দা ৩২ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন। কেনার সময় বিক্রেতা তাঁকে জানিয়েছিলেন, গরুটি দৈনিক ৮ থেকে ১০ লিটার দুধ দিতে পারে। সেই আশ্বাসেই গরুটি কিনেছিলেন ওই ব্যক্তি।
গরু বাড়িতে আসার পর তার দেখভালে কোনও খামতি রাখেননি বলেই দাবি মালিকের। নিয়মিত খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে পরিচর্যা সবই চলছিল যত্ন সহকারে। কয়েক দিন আগে বাচ্চাও প্রসব করে গরুটি। কিন্তু তার পরেই বাধে বিপত্তি। দুধের পরিমাণ দেখে কার্যত মাথায় হাত পড়ে মালিকের! যেখানে ৮ থেকে ১০ লিটার দুধ পাওয়ার আশা করেছিলেন, সেখানে মিলছে মাত্র ৩ লিটার। দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতি দেখে চিন্তা বাড়তে থাকে তাঁর। মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে গরু কিনেও প্রত্যাশামতো দুধ না মেলায় বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, তাতেও সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি।
শেষ পর্যন্ত গরুর দুধের হিসাব নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই ব্যক্তি। সোমবার সন্ধ্যায় গুড়গুড়িপাল থানায় হাজির হন তিনি। থানায় কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক তাঁর কাছে জানতে চান, কী সমস্যা? কেন থানায় এসেছেন? জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, “আমার গরুর যে পরিমাণ দুধ দেওয়ার কথা ছিল, তার থেকে অনেক কম দিচ্ছে। গরু কেনার সময় আমাকে বলেছিল ৮-১০ লিটার দুধ দেবে। এখন ৩ লিটার দিচ্ছে।” এমন অভিযোগের কথা শুনে বিষয়টি মেটানোর উদ্যোগ নেয় পুলিশ। গরুর বিক্রেতাকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। এরপর দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে কথাবার্তার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করেন ক্রেতা ও বিক্রেতা।
তবে ঠিক কী শর্তে তাঁদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, তা জানা যায়নি। সাধারণত চুরি, প্রতারণা, মারধর কিংবা পারিবারিক বিবাদের অভিযোগ নিয়েই থানায় হাজির হন মানুষ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অভিযোগের কেন্দ্রে একটি গরু এবং তার দুধের পরিমাণ। ৩২ হাজার টাকার গরু, ১০ লিটার দুধের প্রত্যাশা আর বাস্তবে মাত্র ৩ লিটার শেষ পর্যন্ত সেই দুধের হিসাব মেটাতে আসরে নামতে হল পুলিশকেও।
