২০২২ সালে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনে স্টারলিঙ্ক সক্রিয় করে মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। যুদ্ধের ময়দানে সে দেশের সামরিক বাহিনী স্টারলিঙ্ককে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – যোগাযোগ ও সমন্বয়, ড্রোন পরিচালনা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ইত্যাদি। কিন্তু সম্প্রতি ইউক্রেনে দাবি করে, স্টারলিঙ্কের পরিষেবায় বিভ্রাট দেখা গিয়েছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেনে স্টারলিঙ্ক বিপর্যয়ে যুদ্ধে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয় কিয়েভের। আকাশ থেকে মাছির মতো ঝরে পড়ে একের পর এক ড্রোন। কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০ লক্ষ ডলারেরও বেশি মূল্যের ড্রোন খুইয়েছে ইউক্রেনের সেনা।
ইউক্রেন সেনার এক কমান্ডার জানান, ড্রোনগুলি যখন রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে হামলার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন আটমকা সেগুলির ভিডিও ফিড কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ড্রোনগুলোর সঙ্গে ‘স্টারশিল্ড’-এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অধিকাংশ ড্রোনই আকাশ থেকে ঝরে পড়ে। এই বিভ্রাটের জেরে সেনার ওই ইউনিটগুলিকে তিন দিনের জন্য প্রায় সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোনগুলি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম। কিন্তু বিভ্রাটের জেরে সেগুলির গতি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬৪ কিলোমিটারে নেমে এসেছিল। শুধু তাই নয়, স্টারলিঙ্ক বিপর্যয় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকেও দুর্বল করে দিয়েছিল বলে খবর। রুশ ড্রোন ধ্বংসকারী ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলিও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল’ একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, স্টারলিঙ্কের গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ মাস্ক। কিন্তু কেন? সেটা অবশ্য জানা যায়নি। তবে স্টারলিঙ্ক বিভ্রাটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন স্পেসএক্স কর্তা। তিনি বলেন, “স্টারশিল্ডের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের হাতে। এর গতি বা ব্যবহারের উপর যে কোনও সীমাবদ্ধতা মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টই নির্ধারণ করেন।” অর্থাৎ, নাম না করে ট্রাম্পকেই তোপ কটাক্ষ করেন তিনি।
