বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলায় কাওসার হাওলাদার নামের ত্রিশোর্ধ্ব এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্তবর্তী পশ্চিম সাতলা এলাকার এই সহিংসতায় রাশেদ আমিন নামে আরও এক যুবদল কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে কাওসার হাওলাদার, রাশেদ আমিনসহ কয়েকজন যুবদল কর্মী পশ্চিম সাতলা এলাকার একটি সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাসে করে আসা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। উপায়ন্ত না পেয়ে হামলা থেকে বাঁচতে কাওসার এবং রাশেদ সেতুর নিচের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পাশের হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, হামলাকারীরা ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাওসারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত কাওসার হাওলাদার উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামের মোনাসেফ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৯জনকে একটি মাইক্রোবাসসহ আটক করা হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পশ্চিম সাতলা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে বিষয়টি নিয়ে আপাতত মিডিয়ায় কথা বলতে চাইছেন না বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. এ জেডএম. মোস্তাফিজুর রহমান। জেলা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, শনিবার বিকেলে উজিরপুর থানায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত মিডিয়াকে অবহিত করা হবে। ধারনা করা হচ্ছে, সেখানে হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ তুলে ধরতে পারে পুলিশ।
