সরকারি ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন ও পালনে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনায় জাতীয় পর্যায়ের ১৮টি দিবস ও উৎসবসহ মোট ৯২টি দিবসকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিবস পালনের ধরন, সরকারি বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্র অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে ১৮টি দিবস ও উৎসব পালন করা হবে। এ ছাড়া ঐতিহ্যগত, পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ৩৯টি দিবস উদযাপন বা পালন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা সম্পৃক্ত থাকবেন। অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে, বিশেষ বিশেষ খাতের প্রতীকী ৩৫টি দিবস সীমিত পরিসরে উদযাপন বা পালন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে উন্নয়ন খাত থেকে এসব দিবস পালনের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত তিন শ্রেণির বাইরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর আরও কিছু গতানুগতিক দিবস পালন করে থাকে। কোনো কোনো দিবস পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে তেমন গুরুত্ব বহন করে না। সরকারের সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলো এ ধরনের দিবস পালনে সম্পৃক্ততা পরিহার করতে পারে।
এ ছাড়া শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১ থেকে ৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর) পালনের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এসব অনুষ্ঠান অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী আয়োজন করা হবে।
জাতীয় পর্যায়ের দিবসগুলো ছাড়া সাধারণভাবে অন্যান্য দিবস পালনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করা। তবে রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রাও পরিহার করতে হবে।
কোনো সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সরকারি কর্মসূচির কারণে দাপ্তরিক কাজে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।
নগদ অর্থ বা উপকরণ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না—এমন সাধারণ কর্মসূচি ছুটির দিনে কিংবা কার্যদিবসে আয়োজন করা যাবে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রচার, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পতাকা উত্তোলন, ঘরোয়া আলোচনা সভা, রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং পত্রিকায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে থেকে কিংবা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করতে বলা হয়েছে।
সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সমধর্মী দিবসের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনকে প্রাধান্য দিয়ে একই তারিখে একত্রে পালন করতে হবে।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে। নতুন নির্দেশনায় দিবস পালনের ক্ষেত্রে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, কর্মসূচির পরিসর সীমিত রাখা এবং সরকারি সময় ও সম্পদের সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
The post জাতীয় পর্যায়ে ১৮ দিবসসহ অন্যান্য দিবস পালনে সরকারের নতুন নির্দেশনা appeared first on ভোরের চেতনা.
