আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় দলে মহম্মদ সামির প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনা চলছেই। কিন্তু একের পর এক ভাল পারফরম্যান্স সত্ত্বেও জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলছে না অভিজ্ঞ পেসারের সামনে। এমনকী, বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও জায়গা হয়নি তাঁর। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচকদের সঙ্গে যোগাযোগের অভাব নিয়ে সরব হলেন সামি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁকে দলে না নেওয়ার কারণ জানতে হলে প্রশ্ন করতে হবে নির্বাচকদেরই।
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন মহম্মদ সামি। কিন্তু সেই সাফল্যের পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন তিনি। তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে বল হাতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই পেসার। তবুও এক দিনের ক্রিকেট-সহ কোনও ফরম্যাটেই ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটেনি তাঁর।
প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের বিদায়ের পর সামির ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তার উপর প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার চোট এবং জশপ্রীত বুমরার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে অভিজ্ঞ পেসারের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা দেখছিলেন অনেকে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের ক্রিকেটে দুর্দান্ত রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও দলে জায়গা হয়নি শামির।
একটি ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তিনি। দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সামির সাফ জবাব, “আপনি ভুল মানুষকে ভুল প্রশ্ন করছেন।” তাঁর বক্তব্য, কেন তাঁকে দলে নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত নির্বাচকদের।
সামি আরও জানান, নির্বাচক কমিটি কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি দলে নেই। আমার কোনও কেন্দ্রীয় চুক্তিও নেই। আমার সঙ্গে কথা বলবে কে? আর কেনই বা বলবে? প্রাক্তন নির্বাচক কমিটি হোক বা বর্তমান প্রধান নির্বাচক প্রজ্ঞান ওঝার নেতৃত্বাধীন কমিটি, কেউই আমার সঙ্গে কথা বলেনি।”
সম্প্রতি সামির ফিটনেস নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছিল, তিনি নাকি ঘরোয়া ক্রিকেটে ছোট ছোট স্পেল বল করছেন। সেই কারণেই জাতীয় দলের নির্বাচকদের আস্থাভাজন হতে পারছেন না অভিজ্ঞ পেসার। তবে শামির দাবি, দলের প্রয়োজন এবং পিচের পরিস্থিতি অনুযায়ীই তিনি বল করেন। রঞ্জি ট্রফির ম্যাচগুলি সম্প্রচারিত হওয়ায় তাঁর পারফরম্যান্স বিচার করার সুযোগও রয়েছে।
নিজের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গে সামি বলেন, “আমি নিজের প্রশংসা করছি না। আমাকে যে দলের হয়ে, যে পরিস্থিতিতে যে দায়িত্বই দেওয়া হোক না কেন, তা পূরণ করার চেষ্টা করি। আমি সব সময় নিজের ১০০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করি। দলের যা প্রয়োজন, সেটা পূরণ করতে হবে। এর বাইরে আমি কিছু ভাবি না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ক্লান্ত কি না, সেটা কে ঠিক করবে? এই বিষয়টা দলের হয়ে খেলতে গিয়েই বোঝা যায়। এমন তো নয় যে সবাই ধরে নেবে, আমি শুধু বল করেই যাব।”
জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত হলেও এখনই অবসরের কথা ভাবতে নারাজ সামি। বরং বর্তমানে যে সুযোগ পাচ্ছেন, সেটাকেই কাজে লাগাতে চান তিনি। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিজের দক্ষতার উপর মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সামির কথায়, “আমি এত দূরের কথা ভাবি না। একজন মানুষের জীবনে কখন, কোথায় কী ঘটবে, তা আমরা জানি না। আজ আমরা ক্রিকেট খেলছি, কিন্তু কাল কী হবে, কোন পরিস্থিতিতে পড়ব, কে রান করবে বা কে উইকেট নেবে, তা কেউ জানে না।”
তিনি আরও বলেন, “যে ম্যাচগুলো খেলার সুযোগ পাচ্ছ, সেগুলো খেলে যাওয়া উচিত। আমি সব সময় বলি, নিজের দক্ষতার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এত দূরের কথা ভেবে নিজের উপর বাড়তি চাপ নিতে চাই না। আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাচ্ছি। এখনও অনেক সময় বাকি রয়েছে।”
জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সামি। বাংলার হয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ১৭.৩ ওভার বল করে ৯টি মেডেন-সহ চারটি উইকেট নেন তিনি। তাঁর দাপটে দিল্লির প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৪০ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ ওভার বল করে সাতটি মেডেন-সহ আরও একটি উইকেট তুলে নেন এই পেসার।
এ বার ২৬ অক্টোবর থেকে কেরলের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলা। সেই ম্যাচেও সামির পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
জাতীয় দলের দরজা এখনও খোলেনি। নির্বাচকদের তরফেও মেলেনি কোনও স্পষ্ট বার্তা। কিন্তু তাতে লড়াই থামাতে রাজি নন মহম্মদ সামি। আপাতত তাঁর লক্ষ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা এবং বাংলাকে রঞ্জি ট্রফি জেতাতে সাহায্য করা।
