১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলি। সেই বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। কারণ আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে পারব না। গতকাল
চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পূজামণ্ডপে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে এই বাংলাদেশের মানুষ জীবনবাজি রেখে করেছিল। যুদ্ধের মাধ্যমে তারা এই মাতৃভূমিকে ছিনিয়ে এনেছিল। যারা শহীদ হয়েছিলেন সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি— কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ কে খ্রিস্টান। আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, তারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিল। স্বাধীন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বিভিন্ন সময় যখন গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছিল তখন সবাই মাঠে নেমেছিল। জনগণের অধিকার ও ভোটের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সেদিনও কিন্তু আমরা দেখিনি আমার পাশের কর্মীটি কোন ধর্মের।
জুলাই অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষ, এদেশের ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। সমগ্র বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ সেদিন রাজপথে বেরিয়ে এসেছিল। তখন ক্ষমতায় টিকে থাকতে স্বৈরাচার গুলি চালিয়েছিল, গুলি খাওয়া মানুষটি কোন ধর্মের সেটা কেউ জিজ্ঞেস করেনি। আমার ভাই শহীদ হয়েছে আমার ভাই আহত হয়েছে; বাকিরা সবাই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে, সেখানেও ডাক্তার তার ধর্মের কথা জিজ্ঞেস করেনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নয়, আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। এই দেশের আইন আমার জন্য যেভাবে প্রযোজ্য একইভাবে আপনার জন্য প্রযোজ্য। এই দেশের ওপর আপনার যে অধিকার একই অধিকার আমারও।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী সাচিং প্রু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা।
