নতুন ব্যবস্থায় কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করবে না। বরং বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে পুঁজিবাজারে লেনদেনের সুযোগ তৈরি করবেন। ফলে এ প্রক্রিয়ায় শেয়ার বিক্রির অর্থ কোম্পানির তহবিলে জমা হবে না, তা পাবেন সংশ্লিষ্ট বিক্রয় প্রস্তাবকারীরা।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বাইরে গিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের নতুন বিধিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ১৮ অক্টোবর ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’ শিরোনামে বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। নতুন বিধিমালায় তালিকাভুক্তির পর সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির শেয়ার বিক্রির সময়সীমা, দর নির্ধারণ, বিনিয়োগকারীর শেয়ার কেনার সীমা এবং উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার ধারণের বিষয়ে বেশকিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির প্রথম ট্রেডিং ডে থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিক্রয় প্রস্তাবকারীদের সম্মিলিতভাবে পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এর মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ২০১৫ সালের লিস্টিং রেগুলেশনের সরাসরি তালিকাভুক্তি-সংক্রান্ত ৮ থেকে ১৩ নম্বর বিধান রহিত করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করবে না। বরং বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে পুঁজিবাজারে লেনদেনের সুযোগ তৈরি করবেন। ফলে এ প্রক্রিয়ায় শেয়ার বিক্রির অর্থ কোম্পানির তহবিলে জমা হবে না, তা পাবেন সংশ্লিষ্ট বিক্রয় প্রস্তাবকারীরা।
বিধিমালায় সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য একাধিক শ্রেণীর কোম্পানিকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকার সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি, যেসব কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার ধারণ অন্তত ১০ শতাংশ, সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানি এবং অন্তত ৫০০ কোটি টাকা নিট সম্পদসম্পন্ন তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি। এছাড়া বার্ষিক টার্নওভার অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা—এমন কোম্পানি, নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও ক্লিয়ারিং-সেটেলমেন্ট কোম্পানিও এ সুযোগের আওতায় আসতে পারবে। কমিশন নির্ধারিত অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রেও সুযোগটি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে যোগ্য শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হলেই কোনো কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।
