Mohan Bhagwat
শ্যামাপ্রসাদের ‘কৃতিত্ব’ নস্যাৎ করে বাংলা ভাগের বিরোধিতা ভাগবতের
-
- 20 Oct 2026
- by গণশক্তির প্রতিবেদন
×
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বঙ্গভঙ্গের ‘কৃতিত্ব’কে নস্যাৎ করলেন মোহন ভাগবত। সঙ্ঘের প্র তিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার নাগপুর থেকে এক ভাষণে আরএসএস- এর প্রধান ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা ভাগের সমালোচনা করেছেন। যদিও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে ‘বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড’- এর জনক বলে পশ্চিমবঙ্গে প্রচার করে আরএসএস, বিজেপি। এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এক কথা একাধিকবার বলেছেন। এদিন মোহন ভাগবত বলেছেন,”লর্ড কার্জন যখন বাঙালিরা আলাদা হোক ভেবে বঙ্গভাগ করার পরিকল্পনা নেন—মুসলমান ও হিন্দুকে ভাগ করে ফেলতে চেয়েছিলেন—তখন সমাজ এগিয়ে এসে সেই ভাগ করার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছিল। ব্রিটিশ সরকার তাদের প্রস্তাব ফিরে নিতে বাধ্য হয়। ঠিক সেই সময় ‘বন্দে মাতরম’ ঐক্য এবং দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিভাজন ঠেকেছিল। তাহলে ১৯৪৭ সালে একই ফল কেন ঘটল না? কারণ যারা আমাদের ভাগ করতে চেয়েছিল, তারা আমাদের মনে ঢুকিয়ে দিল যে আমরা ভিন্ন; আলাদা দেখা যায়, তাই আলাদা হবেই। সাম্প্রদায়িক ও উগ্র ধারার প্রভাব পড়ে আমরা ভাবতে শুরু করলাম যে বাহ্যিক ভিন্নতা মানেই গভীরে আলাদা হওয়া। বিচ্ছিন্নতাবাদ, রাজনীতিতে ক্ষমতার লোভ ও স্বার্থান্বেষণ মিলে আমরা ধীরে ধীরে সেই বন্ধনগুলো ছেড়ে দিলাম যা আমাদের এক করে রেখেছিল। আপ্যায়নের মনোভাবও এই বিভাজনকে শক্তি দিল। শেষ পর্যন্ত দেশ বিভক্ত হয়ে যায়। কিন্তু আলাদা বলে শান্তি ও সুখ পাবো—এই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। বরং আমরা সীমান্তে ও দেশের ভিতর দীর্ঘ বৈরিতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস, অনিরাপত্তা এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়েও ঝগড়ার মুখে পড়েছি।”
ভাগবত ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাভাগেরই বিরোধিতা করেছেন। কেন সঙ্ঘ এখন এই কৌশল নিচ্ছে? সঙ্ঘ সম্প্রতি মুসলমানদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের মুসলমানদের তারা বোঝানোর চেষ্টা শুরু করেছে যে, তারা সংখ্যালঘু-বিদ্বেষী নয়।
