মিঠু সূত্রধর পলাশ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের চরমানিকনগর-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে রাতের আঁধারে অস্ত্রের মুখে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব।
প্রতিদিন রাত ১০টার পর থেকেই ১০ থেকে ১৫টি শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। মেঘনা নদীর রায়পুরা অংশের চরমধুয়া এবং নবীনগর অংশের চরমানিকনগর মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে গভীর থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ও বিস্তীর্ণ চর এলাকা ক্রমাগত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকেরা তাঁদের শেষ সম্বল হারাচ্ছেন, অন্যদিকে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের পেছনে কাজ করছে নরসিংদীর রায়পুরা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সীমান্তবর্তী অঞ্চলের একটি দুর্ধর্ষ ও পেশাদার সন্ত্রাসী বাহিনী। বালু উত্তোলনের স্থান ও ড্রেজারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩-৪টি স্পিডবোটে করে আনুমানিক ২০-৩০ জন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত ব্যক্তি রাতভর পুরো এলাকায় মহড়া দেন। ফলে সাধারণ মানুষ বা স্থানীয় কৃষকেরা প্রাণভয়ে এর প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা নবীনগর উপজেলার বরিকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর গ্রামের মনেক ডাকাত ও তাঁর দুই ছেলে সুমন ও লিওন। এই চক্রের সঙ্গে আরও জড়িত রয়েছেন পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মির্জার চর ইউনিয়নের নয়ন শেখ, দুলাল, ইমান আলী এবং বাঁশগাড়ি গ্রামের হারুন, লিটন, বোবা কালাম ও ওবায়দুল্লাহ। সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রায়পুরা ও নবীনগর থানায় হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মেঘনা নদীতে কোনো ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বরদাশত করা হবে না। নদী ও তীরবর্তী কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসন সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। চরমানিকনগর ও চরমধুয়া মৌজায় রাতের আঁধারে যারা ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই টাস্কফোর্স গঠন করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গেও এ বিষয়ে দ্রুত সমন্বয় করে একটি বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বা যারাই এর পেছনে জড়িত থাকুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের দাবি, শুধু মৌখিক আশ্বাস বা সাময়িক জরিমানা নয়, বরং এই সশস্ত্র চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ড্রেজারগুলো স্থায়ীভাবে জব্দ করে মেঘনা নদী ও স্থানীয় কৃষিজমি রক্ষায় সরকারকে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
The post নবীনগরে মেঘনায় মধ্যরাতে অস্ত্রের মুখে অবৈধ বালু উত্তোলন: হুমকিতে ফসলি জমি, নির্বিকার প্রশাসন! appeared first on The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is.
