ভাবুন তো একবার! কোটি কোটি বছর আগের আদিম পৃথিবী! সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আপনি। আর আপনাকে ঘিরে রয়েছে দৈত্যাকার সব ডাইনোসর। নিছক কল্পনা ভাবছেন তো? ধরুন, সত্যি হয়ে উঠল এমন এক মুহূর্ত। না, অবাক হবেন না। এমন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাই এখন ধরা দিচ্ছে তিলোত্তমা বেঙ্গালুরুর বুকে। দক্ষিণ ভারতের এই টেক সিটিতে চালু হল প্রথম ডাইনোসর পার্ক। বেঙ্গালুরু ও মাইসুরু হাইওয়ের ধারে অবস্থিত জলিউড স্টুডিওতে গড়ে উঠেছে এমনই এক প্রাগৈতিহাসিক জগত। ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসার দারুণ এক জনপ্রিয় ঠিকানা।
পার্কে পা রাখতেই চোখে পড়বে বড় কাঠের গেট। গেটের গায়ে লেখা ‘ডেঞ্জার র্যাপ্টরস’। সেখান থেকে সাফারি স্টাইলে শুরু হবে রোমাঞ্চ। জঙ্গল থিমের এই পার্কের ভেতরে ঢুকলেই গর্জন করে উঠবে বিশালাকার সব ডাইনোসর। বড় বড় গাছেদের আড়ালে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকা টি-রেক্স বা মাথার ওপর ছাদের মতো বিশাল ব্র্যাকিওসরাস—সব মিলিয়ে সাঙ্ঘাতিক গা ছমছমে পরিবেশ। নড়াচড়া করা এই অ্যানিমেট্ৰনিক ডাইনোসরগুলো দেখে মনে হবে, সত্যি সত্যিই আপনি জুরেসিক পার্কের দুনিয়ায় এসে পড়েছেন।
View this post on InstagramA post shared by Dreamy Wanderers | Travel & Lifestyle (@dreamy_wanderers_)
কীভাবে পোঁছবেন?
রামানগর জেলার বিদাদী শিল্প তালুকের বীরমঙ্গলা ক্রসের কাছে এই স্টুডিওর অবস্থান। বেঙ্গালুরু শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরত্ব প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার। মেট্রো, ক্যাব, অটো কিংবা বাস—সব মাধ্যমেই অনায়াসে পৌঁছানো যায়। বেঙ্গালুরু-মাইসুরু মহাসড়কের ধারেই এর অবস্থান হওয়ায় যাতায়াতও বেশ সহজ।
টিকিট মূল্য কত?
পার্কটি খোলা থাকে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত। সমস্ত রাইড ও অ্যাক্টিভিটি মিলিয়ে টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১২০০ টাকা। ডাইনোসর পার্কের পাশাপাশি এখানে রয়েছে একটি বিশেষ মিউজিয়ামও। সেখানে ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রদর্শনী ও নানা মডেলের মাধ্যমে ডাইনোসরদের বিবর্তন এবং পৃথিবীর ওপর তাদের প্রভাব সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
বোরিং রুটিন থেকে বেরিয়ে একটু অন্যরকম রোমাঞ্চ খুঁজতে চাইলে বেঙ্গালুরুর এই নতুন জুরাসিক ওয়ার্ল্ডে ঘুরে আসা যেতেই পারে। আদিম যুগের সেই বিশালাকার প্রাণীদের খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না রোমাঞ্চপ্রেমীরা।
