Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়: প্রতিমা নিরঞ্জনের সময়ে হুগলি নদী–সহ বিভিন্ন জলাশয়ের জল এবং তার চারপাশের পরিবেশ যাতে দূষিত না হয়, তার জন্য কলকাতা পুরসভার পরিবেশ এবং বর্জ্য অপসারণ বিভাগের কর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বে থাকা দুই বিভাগের কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হুগলি নদীর বিভিন্ন ঘাট এবং তার বাইরে শহরের বিভিন্ন জলাশয়ে বিসর্জনের পরে যেন প্রতিমার কাঠামো পড়ে না–থাকে। সেগুলি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা পুরসভা কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট ঘাটগুলিতে প্রতিমা নিরঞ্জনের তদারকির দায়িত্বে থাকা একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, এ বার বিসর্জনের আগে ক্রেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যদিও জলে প্রতিমা ভাসানো হলে, তাকে পাড়ে নিয়ে গিয়ে দ্রুত ক্রেনের সাহায্যে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
বিসর্জনের পরে পুজোর সরঞ্জাম এবং প্রতিমার গায়ের রং থেকে নদী ও জলাশয়ের জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ নিয়ে পরিবেশকর্মীরা অনেকবার পুরসভাকে সতর্ক করেছেন। এ বারের পুজোয় সেই সতর্কতা মেনে কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের কর্মীরা জানিয়েছেন, ঘাটের পাশে ফুল–সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এক জায়গায় জড়ো করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদী বা জলাশয়ের কাছাকাছি কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানেই প্রতিমা নিরঞ্জনের যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনও দুর্ঘটনা যাতে না–ঘটে, তার জন্য প্রতিটি বিসর্জনস্থলে পুরকর্মী এবং উর্দিধারীদের কড়া নজরদারি রয়েছে।
কাল, শনিবার পর্যন্ত প্রতিমা নিরঞ্জনের পর্ব চলবে। হুগলি নদীর ২৮টি, আদিগঙ্গার পাঁচটি ঘাট এবং কলকাতা শহরের বিভিন্ন এলাকার ৩৪টি জলাশয়ে পুরসভা ও পুলিশের তরফে বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতায় পারিবারিক এবং বারোয়ারি মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার দুর্গাপুজো হয়। বুধবার, দশমীর দিন পারিবারিক পুজোগুলির প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
দশমী এবং একাদশী মিলিয়ে দু'দিনে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় হাজার দুয়েক প্রতিমার বিসর্জন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুরকর্মীরা। পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে খবর, কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার জন্য হুগলি নদীর বাগবাজার, শোভাবাজার, নিমতলা, কুমোরটুলি, বাজেকদমতলা, জাজেসঘাট এবং তক্তাঘাটে অ্যাম্বুল্যান্স মজুত রাখা হয়েছে।
