যে দলটা মরশুমের শুরু থেকে বিতর্কহীন ভাবে দারুণ ছুটছিল, আইএসএলের প্রথম ম্যাচ শুরুর প্রাক্কালে তাদেরই কেমন আগোছাল লাগছে। ঠিকই ধরেছেন, ইস্টবেঙ্গলের কথাই বলছি। ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারানোর পর যখন মনে হচ্ছিল, এই মরশুমের অপ্রতিরোধ্য দলের নাম, ইস্টবেঙ্গল। ঠিক তখনই ইন্দ্রপতন শিল্ড ফাইনাল আর ঘরের মাঠে এএফসিতে। বিশেষ করে এএফসিতে ইরাকের আল-শোর্তার বিরুদ্ধে দু’দুবার এগিয়ে থেকে হেরে যাওয়ায়, ডিফেন্সের যাবতীয় ফাঁকফোকর ভীষণভাবে চোখে পড়েছে। তার মধ্যেই আবার বেতন নিয়ে সমস্যা। ফলে সব মিলিয়ে প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে রীতিমতো চাপে রয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। কারণ, প্রথম ম্যাচে জিতলেই যাবতীয় সমস্যার সমাধান। আর যদি অঘটন কিছু ঘটে, পুজোর মরশুমে হাবাসের দল ঘিরে কী হতে পারে, সহজেই অনুমেয়।
গত মরশুমে একটিও ম্যাচ না খেলা চার্চিল ব্রাদার্স এই মরশুমে সরাসরি আইএসএলে খেলার সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচে মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়েও দিয়েছে। কিন্তু এই মরশুমে মুম্বই আর ইস্টবেঙ্গলের মধ্য যে পার্থক্য থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। চার্চিলের মতো আইএসএলে প্রথম বছরের দল না হলেও মুম্বই কিন্তু সেভাবে প্র্যাকটিস করার সুযোগই পায়নি। তাই মুম্বই ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে বিচার করছে না চার্চিল ব্রাদার্স। তবে প্রথম বছর শেষ মুহূর্তে আইএসএলের অন্তর্ভুক্ত হলেও, চার্চিল ব্রাদার্সকে খুব একটা হালকাভাবে দেখছেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ। হাবাস বলেন, “চার্চিল প্রথম বছর আইএসএলের খেলার জন্য অনেক বেশি উজ্জীবিত থাকবে। ওদের ঘরের মাঠে এটাই যা চিন্তার। তবে আমাদের প্রস্তুতিও খারাপ হয়নি। বিশেষ করে ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি এএফসিতেও খেলার জন্য।”
হাবাসের মূল সমস্যা এখন প্রথম দলে কোন বিদেশিদের খেলাবেন। এএফসিতে জিভুলিচের পারফরম্যান্সের পর রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে। যদিও হাবাস চাইছেন, জিভুলিচকে আরও একটু সময় দিতে। কারণ, ম্যাচ খেলতে খেলতেই আনোয়ার-জিভুলিচ বোঝাপড়া গড়ে উঠবে। সেই কারণেই হয়তো চার্চিলের বিরুদ্ধে জিভুলিচকে খেলানোর কথা ভাবছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। কিন্তু লোবা বা লুকাসকে শুরু থেকে খেলবেন কি না, এখনও সিদ্ধান্ত নিয়ে পারেননি হাবাস।
ঠিক করেছেন, রবিবার সকালে ম্যাচের দিন ফের একবার ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ফুটবলারদের একটা কথা বলে দিয়েছেন, যেভাবেই হোক আইএসএলের প্রথম ম্যাচটা জিতেই কলকাতায় ফিরতে হবে।
