রাজধানীর ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের মালিকানাধীন বাড়িতে মাদকসহ ৮৪ জনকে আটকের পর নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির। তাঁর দাবি, তিনি জায়গা ভাড়া দিয়েছেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে ভাড়া দেননি। ভাড়া থেকে ব্যবস্থাপনার খরচ বাদে অবশিষ্ট অর্থের ৭০ শতাংশ তিনি পান বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে, তাঁর ভাড়া দেওয়া বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৮৪ জনকে আটকের পর তাঁকে ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল সোমবার রাতে শুরু হয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পিওএইচএস-১ হাউজিংয়ের পুলিশ ফাঁড়ি-সংলগ্ন আড়াইতলা ভবনটিতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ সময় বাড়িটি থেকে মাদকসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী।
অভিযানের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জহির বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক গ্রহণ ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এ কারণে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানিয়েছিলেন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটির কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে কক্ষ বুকিং করে এসব পার্টিতে অংশ নিতেন। পার্টি থেকে পাওয়া আয়ের ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির এবং ৩০ শতাংশ তাঁর কর্মীরা পেতেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, জায়গা ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা ও ব্যবহারের নিয়মকানুন জানিয়ে দেওয়া হয়। কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, তা-ও বলা হয়। তবে কেউ ভাড়া নিয়ে সেখানে পার্টির আয়োজন করে মদ্যপান করলে কিংবা বোতলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে গেলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
ভাড়া ব্যবস্থাপনার জন্য কো-হোস্ট নিয়োগের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, ভাড়া দেওয়া জায়গার ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখভাল করেন কো-হোস্ট। ভাড়া থেকে খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থের ৩০ শতাংশ পান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বাকি ৭০ শতাংশ তিনি পান বলে দাবি করেন।
নিজের বাসা ও সামনের জায়গা থেকে পাওয়া ভাড়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো স্পেস ভাড়া দি, ভাড়া হিসেবে, রেন্ট হিসেবে যেটা থেকে অর্থ আসে। ব্যবস্থাপনার কাজের জন্য খরচ বাদে অবশিষ্ট অর্থের ৭০ শতাংশ আমি নিয়ে থাকি।’ তবে তাঁর দাবি, এর অর্থ এই নয় যে জায়গাটিতে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড হলে সেই কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি অর্থ নেন।
ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদক গ্রহণ ও ডিজে পার্টি আয়োজনের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, কোনো বাড়িওয়ালা বা জায়গার মালিকের পক্ষে সব সময় ভাড়াটিয়ার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়। কোনো ভাড়াটিয়া অপরাধ করলে তার দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ির মালিকের ওপর বর্তায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল জহির ভাষ্য, কোনো ভাড়াটিয়া অবৈধ কর্মকাণ্ড চালালে বাড়িওয়ালা তা না-ও জানতে পারেন। তবে বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়াকে বের করে দেওয়া বা ভবিষ্যতে তাঁকে আর ভাড়া না দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বড় বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকেরা সাধারণত অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য জায়গা ভাড়া দেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, ‘ডিস্টর্টেড নিউজ’ বা বিকৃত সংবাদ প্রকাশের কারণে মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমি তো খারাপ কাজের জন্য কাউকে ভাড়া দিইনি।’
