
সাদা কাশফুলে মুগ্ধ নড়াইল, সৌন্দর্য দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড়
সাদা মেঘের ভেলা আর বাতাসে দোল খাওয়া শরতের সাদা কাশফুল প্রকৃতির এমন অপরূপ সাজে মুগ্ধ নড়াইলের মানুষ। জেলার বিভিন্ন নদী, সড়ক ও বিলের পাড়ে ফুটেছে কাশফুল। কাশফুলের অপরুপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না, এমন মানুষ খঁজে পাওয়া ভার। ঝকঝকে নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে টানছে।
কাশফুলের ছোঁয়া পেতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনাথী ছুটে আসছেন নড়াইল শহরের মহিষখোলা এলাকার বালুর মাঠ। মাঠজুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে তুলছেন ছবি ও ভিডিও।
শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুল সব মিলিয়ে মহিষখোলার বালুর মাঠে তৈরি হয়েছে এক নান্দনিক পরিবেশ। শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় বের করে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে অনেকেই ছুটে আসছেন এই মাঠে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ছবি তোলা ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দময় মুহূর্ত পার করছেন তাঁরা।
দর্শনার্থীরা জানান, শরৎকালে কাশফুলের সৌন্দর্য প্রকৃতিকে এক ভিন্ন রূপে সাজিয়ে তোলে। সাদা কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা এবং খোলা পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো তাঁদের কাছে আনন্দের। শহরের কাছাকাছি এমন একটি জায়গা থাকায় অবসর সময়ে এখানে ঘুরতে আসতে পারছেন তাঁরা।
মহিষখোলা বালুর মাঠে কাশফুল দেখতে আশা তানিয়া বলেন, ‘কাশফুল দেখতে এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। চারদিকে সাদা কাশফুল আর খোলা পরিবেশ মনকে প্রশান্তি দেয়। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে এখানে সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগে। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারাটা সত্যিই আনন্দের।’
মাহিম মোল্যা বলেন, ‘কাশফুলের সৌন্দর্য অন্য রকম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশফুলের ছবি দেখে এখানে ঘুরতে আসার আগ্রহ তৈরি হয়। এখানে এসে নিজের চোখে কাশফুল দেখে এবং ছবি তুলে খুব ভালো লাগছে। সুযোগ পেলে আবারও আসব এখানে।,
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা শাপলা বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে খোলা পরিবেশে ঘুরতে পারছি, কাশফুল দেখছি, সব মিলিয়ে সময়টা ভালো কাটছে। শহরের কাছাকাছি এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ থাকায় অবসর সময়ে এখানে আসা যায়।,
শুধু সৌন্দর্য ছড়ানো নয়, গ্রামীণ জীবনেও কাশগাছের রয়েছে নানা ব্যবহার। স্থানীয়ভাবে কাশগাছ দিয়ে ঝাঁটা, ডালি ও মাদুর তৈরি করা হয়। এ ছাড়া ঘরের ছাউনি, পানের বরজ, বাড়ির সীমানার বেড়া এবং কৃষকের মাথাল তৈরিতেও কাশগাছ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনযাত্রায়ও কাশগাছের রয়েছে ব্যবহারিক গুরুত্ব।
স্থানীয়দের মতে, প্রতিবছর শরৎকালে কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসেন। এতে এলাকাটির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে। তবে প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে কাশফুল নষ্ট না করা, যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
মহিষখোলার বালুর মাঠে দর্শনার্থীদের এই উপস্থিতি যেন প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। সাদা কাশফুলের দোলায় দোলায় এই মাঠ এখন নড়াইল শহরের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে শরতের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।
