প্রতীকী ছবিগ্রাফিক্স: রুশিতা বোস দত্ত
Published on
:
2 min read
উত্তরপ্রদেশের মিরাটে শোরগোল ফেলা রোমহর্ষক 'নীল ড্রাম মামলা'-য় দোষীদের ফাঁসির শাস্তি দিয়েছে সেখানকার জেলা আদালত। সৌরভ রাজপুত হত্যায় দোষী সাব্যস্ত মুসকান রস্তোগী ও তার বয়ফ্রেন্ড সাহিল শুক্লাকে বুধবার, ১৪ অক্টোবর ফাঁসির সাজা শুনিয়েছেন মিরাটের জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র। মামলার রায় দেওয়ার পরে বিচারক তাঁর কলম ছুড়ে ফেলে দেন।
অনেকেরই প্রশ্ন, কী কারণে বিচারক শাস্তি ঘোষণার পরে তাঁর রায় লেখার কলম ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন? এই কাজ কি বিচারক ভারতীয় দণ্ডবিধি বা ফৌজদারি আইন অনুযায়ী করেছিলেন, না এর অন্য কোনও ব্যাখ্যা রয়েছে?
হাওড়া, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাক্তন কয়েকজন জেলা জজ (District Judge) জানাচ্ছেন, এ নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে।
১। রায় লিখে সই করে দেওয়ার পরে কোনও বিচারকের সেই রায় প্রত্যাহার বা পুনরায় বিবেচনা করার ক্ষমতা থাকে না। তাই তিনি রায় দানের পরে কলমের নিব ভেঙে দেন বা কলম বাতিল করেন বা ছুড়ে ফেলে দেন। যাতে নিজের রায় তিনি নিজে পুনর্বিবেচনা করতে না পারেন।
২। ব্রিটিশ আমল বা তার আগে থেকে কলমের নিব ভেঙে দেওয়া বা তা বাতিল করে দেওয়া একটা প্রথা। যে কলমের আঁচড়ে কারও প্রাণদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলো, সেই কলম যাতে অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা না হয়। অর্থাৎ, যে কলম রক্তের স্বাদ পেল, সেই কলম যাতে আর কারও প্রাণ নিতে না পারে।
৩। প্রাণদণ্ড দেওয়ার পরে যাতে বিচারক তাঁর রায় ও দোষীর থেকে সমান দূরত্ব বজায় রেখে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেন।
৪। কলমের নিব ভেঙে দেওয়ার পরে বিচারককে যাতে নিজের রায় নিয়ে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে না হয় বা সেই রায় যাতে তিনি আর মনে রাখতে না পারেন।
হুগলি জেলার অবসরপ্রাপ্ত এক জেলা জজ জানাচ্ছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধিতে বা ফৌজদারি আইনে প্রাণদণ্ড ঘোষণার পরে বিচারকের নিজের হাতে রায় লেখার কলমের নিব ভেঙে দেওয়া বা তা বাতিল করার কোনও উল্লেখ নেই। এই কাজ অনেকটাই প্রথামাফিক করা হয়। কোনও বিচারপতি তা না-ও করতে পারেন। তবে কলম বাতিল করাকে সেই অর্থে 'কুসংস্কার' বলতে নারাজ প্রাক্তন বিচারকরা।
প্রাক্তন বিচারকদের মতে, পৃথিবীর যে কোনও দেশের আইনেই প্রাণদণ্ড শেষ ও চূড়ান্ত ব্যবস্থা। অত্যন্ত ভেবেচিন্তে এবং দোষীর সামাজিক, মানসিক, পারিবারিক ও ভবিষ্যতের সব কিছু বিবেচনা করেই প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়। প্রাক্তন বিচারকেরা জানাচ্ছেন, শাস্তি ঘোষণার আগে সরকার পক্ষ এবং অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে উপস্থিত থাকেন। কাঠগড়ায় তোলা হয় দোষীকেও। দোষীর কাছ থেকে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে একাধিক প্রশ্নের উত্তর নিতে হয়।
জিজ্ঞাসা করা হয়: তাঁর পরিবারের কে কে রয়েছেন। তাঁদের বয়স কত, তাঁরা কে, কী করেন। দোষীই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি না অন্য কেউ রয়েছেন, পরিবারে মরণাপন্ন কোনও রোগী রয়েছেন কি না, দোষীর ক'টি সন্তান, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও চিন্তাভাবনা রয়েছে কি না।
এই ধরনের আরও নানা প্রশ্নের জবাব নিতে হয় বিচারককে। চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণার আগে বিচারককে সিদ্ধান্ত নিতে হয় আইন অনুযায়ী। আইনের বাইরে গিয়ে নয়।
